Acquired-Immunodeficiency-Syndrome.png

এইডস

দু ধরণের এইচ আই ভি আছে। 'ধরণ -১ এইচ আই ভি' ভারতে বেশী পরিচিত। সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে অসুরক্ষিত যৌন সংযোগে সাধারণত: এই রোগটি হয়ে থাকে। তাছাড়া, সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও এক শরীর থাকে অন্য শরীরে রক্ত স্থানান্তরণে এই রোগটি ছড়াতে পারে। এইডসের প্রথম সাধারণ লক্ষণ হল ইন্ফ্লুএন্জা (ফ্লু) অথবা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, আবার একই সঙ্গে কোনো ধরণের আগাম লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে। এইডস  আক্রমণের ২ থেকে ৩ মাস পরেও লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সাধারণত:, রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত-পরীক্ষা করা হয়। এইডসের পরিপূর্ণ আরোগ্য সম্ভব নয়, তবে এটাও   ঠিক এইচ আই ভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসায় বহু ওষুধ রয়েছে।

তথ্যসূত্র :
www.naco.gov.in
www.aids.org
www.cdc.gov
www.nlm.nih.gov
www.nhs.uk
www.who.int
www.unicef.org

এইডসের তিনটি মূল ধাপ বা পদক্ষেপ রয়েছে :
তীব্র লক্ষণ, রোগের প্রচ্ছন্ন অবস্থা এবং জটিল ও তীব্র উপসর্গ

তীব্র লক্ষণ : এইচ আই ভি আক্রান্ত বেশীর ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে শরীরে ভাইরাস ঢোকার পর এক থেকে দু মাসের মধ্যে ইন্ফ্লুএন্জা (ফ্লু) দেখা দেয়।
শুরুর দিকের  এই অসুস্থতার লক্ষণ 'প্রাথমিক এইচ আই ভি সংক্রমণ' নামে পরিচিত, এবং এটি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। সম্ভাব্য উপসর্গগুলোর মধ্যে পড়ে :

  • মাথা ব্যাথা
  • জ্বর
  • গলা ব্যাথা
  • পেশী যন্ত্রণা
  • ফুসকুড়ি
  • মুখগহ্বর বা যৌনাঙ্গে আলসার
  • প্রধানত ঘাড়ের উপর ফোলা লসিকা গ্রন্থি
  • গাঁটের ব্যথা
  • উদরাময়
  • রাতে ঘেমে যাওয়া

রোগের প্রচ্ছন্ন অবস্থা :

একটানা লসিকা গ্রন্থির ফুলে থাকা এইচ আই ভি' র প্রছন্ন অবস্থার লক্ষণ, এছাড়া এর নির্দিষ্ট অন্য কোনো লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায় না, যদিও শরীরের মধ্যে এইচ আই ভি'-র সংক্রমণ পুরোপুরি থাকে।

তীব্র উপসর্গ :

  • মাথাব্যাথা
  • ঝাপসা এবং বিকৃত দৃষ্টি
  • কাশি এবং শ্বাসকষ্ট
  • জিভে বা মুখের ভিতর একটানা  সাদা দাগ বা অস্বাভাবিক ক্ষত
  • রাতে ঘামে ভিজে যাওয়া
  • কয়েক সপ্তাহ ধরে শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, কাঁপুনি বা ১০০ ফারেনহাইট/৩৮ সেন্টিগ্রেটের বেশী কাঁপুনিসহ  জ্বর।
  • দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া
  • একটানা অবর্ণনীয় ক্লান্তি
  • ওজন কমে যাওয়া
  • চামড়ায় লাল লাল ফুসকুড়ি

তথ্যসূত্র :
www.nlm.nih.gov
www.nhs.uk

বিভিন্ন ভাবে একজন ব্যক্তি এইচ আই ভি /এইডস আক্রান্ত হতে পারেন।  এক শরীর থেকে আর এক শরীরে রক্ত স্থানান্তরণের ফলে : কিছু ক্ষেত্রে এইচ আই ভি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে রক্ত স্থানান্তরণের ফলে এইচ আই ভি ভাইরাসটি ঐ ব্যক্তির শরীরে ছড়াতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ব্যবহৃত সূচ অন্যের শরীরে ব্যবহার করলে : সংক্রমিত রক্ত সূচ বা সিরিঞ্জের মাধ্যমে অন্যের শরীরে ছাড়িয়ে পড়তে পারে।

যৌন সংযোগ : সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সংযোগের ফলে এইডসের ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।

মা থেকে সন্তানের মধ্যে : এইচ আই ভি আক্রান্ত একজন গর্ভবতী মহিলা সংযুক্ত রক্ত-সংবহনের মাধ্যমে গর্ভস্থিত ভ্রুণের মধ্যে অথবা একজন সদ্যজাত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মধ্যে দিয়ে মা থেকে শিশুর মধ্যে এইডস ছড়াতে পারে।

তথ্যসূত্র : www.nlm.nih.gov

এইচ আই ভি পরীক্ষায় হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস  নির্দ্ধারণ করতে লালা, রক্ত রস (সিরাম) ও মূত্র পরীক্ষা করা হয়।  'ইউ এন এইডস/ ডাব্লু এইচ ও' অনুসারে এইচ আই ভি পরীক্ষায় মানব অধিকারের অভিগম্যতার ভিত্তিতে 'নৈতিক নীতি' অবলম্বন করা হয়। এই নীতি অনুযায়ী স্বতন্ত্র ভাবে প্রত্যেক ব্যক্তির এইচ আই ভি পরীক্ষায় নিম্ন লিখিত পন্থাগুলো অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয় :

গোপনীয়তা : ব্যক্তি, দম্পতি এবং পরিবারের  পাশে দাঁড়াতে গোটা পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফল পারিপার্শিক পরিবেশে সম্পূর্ন গোপন রাখা হয়। ঘরে বসে এইচ আই ভি 'র পরীক্ষা ও পরামর্শের (এইচ বি এইচ টি সি) সুবিধা থাকায় দ্রুত এইচ আই ভি'র পরীক্ষা করা যায়। ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে এই পরীক্ষার ফল জানা যেতে পারে।

  • পরামর্শ সহ পরীক্ষা (যাদের পরীক্ষার ফল ধনাত্মক/পজিটিভ)
  • যে ব্যক্তির পরীক্ষা করানো হবে, পুরো পদ্ধতিটি ওই ব্যক্তির অনুমতি সাপেক্ষ
  • এইচ আই ভি/এইডসের চিকিৎসায় নানাবিধ পরীক্ষা  রোগের প্রকৃত অবস্থান নির্ণয় করতে চিকিৎসককে সাহায্য করে।

পরীক্ষাগুলোর মধ্যে পড়ে :

উইন্ডো পিরিয়ড : এইচ আই ভি সংক্রমণ ও অ্যান্টি-এইচ আই ভি অ্যান্টিবডি'র আবির্ভাবের মধ্যবর্তী সময়কাল যা নির্ণয় করা হয় উইনডো পিরিয়ডের মাধ্যমে।  উইন্ডো পিরিয়ডে অ্যান্টিবডি-পরীক্ষা মিথ্যা ও নেতিবাচক ফলাফল দিতে পারে (এইচ আই ভি অনুপস্থিত হলে কোনো অ্যান্টিবডি ধরা পড়ে না)।

সি ডি ৪ কাউন্ট : সি ডি ৪ কোষগুলো এক ধরণের শ্বেত রক্ত-কণিকা যা এইচ আই ভির মূল লক্ষ্য ও  এইচ আই ভি দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। একজন সুস্থ ব্যক্তির  সি ডি ৪ গণনা ৫০০ থেকে ১০০০ পর্যন্ত হতে পারে। কোনো ব্যক্তির মধ্যে এইচ আই ভি 'র কোনো লক্ষণ না থাকলেও এইচ আই ভি 'র  সংক্রমণ এইডস-এ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে পারে যদি কোনো ব্যক্তির  সি ডি ৪ কাউন্ট ২০০-র কম হয়।

দ্রুত ও পয়েন্ট-অফ-কেয়ার টেস্ট : এই দ্রুত পরীক্ষা এক ধরনের অনাক্রমতার পরীক্ষা (ইমিউনো  অ্যাসে) যা স্ক্রীনিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি অতি দ্রুত ফলাফল জানাতে পারে (২০ মিনিট বা তারও কম সময়ে )। 'দ্রুত পরীক্ষা'-য়  এইচ আই ভি'র অ্যান্টিবডি সন্ধানে রক্ত বা মুখের লালা ব্যবহৃত হয়। যদি কোনো অনাক্রমতার পরীক্ষা (ল্যাব টেস্ট বা দ্রুত পরীক্ষা) উইন্ডো পিরিয়ডে ঘটে, সেক্ষেত্রে পরীক্ষায় অ্যান্টিবডি খুঁজে নাও পাওয়া যেতে পারে এবং মিথ্যে ও নেতিবাচক ফল প্রদান করতে পারে। পজেটিভ ইমিউনো  অ্যাসে সঠিক কিনা সুনিশ্চিতভাবে জানতে একটি ফলো-আপ পরীক্ষার প্রয়োজন।

ই এল আই এস এ (উৎসেচক-সংযুক্ত ইমিউনোসর্বেন্ট আসে) : ই এল আই এস এ বিশেষ কতগুলো রক্ত পরীক্ষার সমন্বয় যার দ্বারা এইচ আই ভি সংক্রমণ নির্ণয় করা হয়। ই এল আই এস এ পরীক্ষায় সিরিঞ্জ দিয়ে শরীর থেকে রক্ত টেন নেওয়া হয়। এল আই এস এ পরীক্ষার হাঁ-সূচক ফল এলেই যে ওই ব্যক্তি এইচ আই ভি সংক্রামিত এমনটি ভাবা ঠিক নয়। কিছু বিশেষ কারণে যেমন লাইম রোগ,উপদংশ (সিফিলিস),লুপাস হলে হাঁ-সূচক ফল এলেও আসতে পারে।

আর এন এ পরীক্ষা : আর এন এ পরীক্ষায় সরাসরি ভাইরাস নির্ধারণ করা যায় (এইচআইভির অ্যান্টিবডি থাকলেও ) এবং এইভাবে অ্যান্টিবডি বৃদ্ধির আগে ও রক্তে সংক্রমণ প্রকাশিত হওয়ার পর আর এন এ পরীক্ষায় প্রায় ১০ দিনেই এইচ আই ভি সংক্রমণ নির্ধারণ করা যায়।

এই পরীক্ষাগুলোর খরচ অ্যান্টিবডি পরীক্ষার চেয়ে বেশী ও সাধারণত: স্ক্রীনিং টেস্ট হিসেবে অথবা ক্লিনিক্যাল ওয়ার্ক-আপে এর কোনো প্রয়োগ নেই।

ওয়েস্টার্ন ব্লট : হাঁ -সূচক ই এল আই এস এ (উৎসেচক-সংযুক্ত ইমিউনোসর্বেন্ট আসে) টেস্ট এইচ আই ভি সন্ক্রমনকে নিশ্চিত করতে সব সময় ওয়েস্টার্ন ব্লট টেস্টকে অনুসরণ করে।

* স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলো আরো ভালোভাবে জানাতে ও বোঝাতে এন এইচ পি নির্দেশমূলক তথ্য প্রদান  করে। কোনো চিকিৎসা ও রোগ নির্ধারণের জন্য আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র www.cdc.gov

এইডস রোগের সুনিশ্চিত আরোগ্য ও নিরাময়ের রাস্তা এখনো আবষ্কৃত হয়নি।  রোগীর রক্তে সি -ডি ৪ গণনার উপর নির্ভর করে, যদিও কিছু ওষুধ এই রোগের কয়েকটি অবস্থায় দেওয়া হয়  যা এইচ আই ভি আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন-কাল দীর্ঘায়িত করতে পারে।

  • রিভার্স ট্রান্সক্রিপটর্স (আর টি) ইনহিবিটরস্ (নিরোধক) - এইচ আই ভি'র  জীবনচক্রের সময় এক জটিল ধাপে এটি হস্তক্ষেপ করে এবং ভাইরাসের নিজের নিজস্ব প্রতিলিপি গড়তে বাধা দেয়।
  • প্রোটিজ ইনহিবিটরস্ (নিরোধক) - এটি  এইচ আই ভি  সংক্রমিত ভাইরাসঘটিত ক্ষুদ্র কণা গঠনের প্রোটিনকে গড়ে উঠতে বাধা দেয় ।
  • ফিউশন ইনহিবিটরস্  (নিরোধক) -এটি শরীরের কোষে ভাইরাসের প্রবেশ আটকে দেয়।
  • ইনটিগ্রেস ইনহিবিটরস্ (নিরোধক) -এটি এইচ আই ভি নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে এমন উৎসেচককে আটকে দেয়।
  • বহু-ওষুধ (মাল্টিড্রাগ) সমন্বয়- এক্ষেত্রে দুই অথবা দুয়ের বেশি ওষুধ একটির মধ্যে মেশানো হয়।  এই ওষুধগুলো এইচ আই ভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থ হতে সাহায্য করে, কিন্তু এগুলো  যথাযথ বা নিখুঁত হয় না। এগুলো এইচ আই ভি / এইডসকে একেবারে নিরোগ করতে পারে না। এই ওষুধের সমন্বয় প্রয়োগের পরও শরীরে এইচ আই ভি 'র জীবাণু থেকেই যায়। এই ওষুধের সমন্বয় প্রয়োগের পরও অসুরক্ষিত যৌন সংযোগে ও সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরে ব্যবহৃত সুঁচ অন্যের শরীরে ব্যবহৃত হলে এইচ আই ভি ছড়াতেই পারে।

* এন এইচ পি আরো ভালোভাবে স্বাস্থ্যকে জানতে ও বুঝতে নির্দেশমূলক তথ্য প্রদান করে।  চিকি९সা ও রোগনির্ণয়ের ক্ষেত্রে আপনার  চিকি९সকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

তথ্যসূত্র :
www.nlm.nih.gov
www.nlm.nih.gov

এইডস এড়িয়ে চলার সহজ পথ  : ১. বিরত থাকা,

                                           ২. বিশ্বস্ত হওয়া
                                           ৩. নিরোধ ব্যবহার

এইচআইভি প্রতিরোধ বলতে এইচআইভি / এইডস এর বিস্তার রোধ করার অনুশীলন বোঝায়।  নিজস্ব স্বাস্থ্য রক্ষার প্রয়োজনে একজন ব্যক্তি এইচআইভি প্রতিরোধ-চর্চা ব্যক্তিগতভাবে চালিয়ে যেতে পারেন।

  1. জনসাধারনের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া
  2. এইচ আই ভি/ এইডস-র সম্ভাবনা কমাতে নিরোধ ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে যৌন সংযোগ
  3. বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন জনসংখ্যা র মধ্যে তাদের এইচআইভির  অবস্থান ও পরিসংখ্যান সম্পর্কে জনগণকে সচেতনতা প্রদান প্রয়োজন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী উচ্চ ঝুঁকি জনসংখ্যার মধ্যে পড়ে যৌন কর্মী এবং তাদের সহযোগীরা, অন্তর্শিরায় নেশা প্রদানের  একদল ড্রাগ ব্যবহারকারীরা, ট্রাক ড্রাইভার, শ্রম অভিবাসী, উদ্বাস্তু এবং কয়েদী ও বন্দীরা।
  4. নিরাপদ ইনজেকশন: স্বয়ংক্রিয় 'নিষ্পত্তি সিরিঞ্জ'(ডিসপোজাল সিরিঞ্জ) ব্যবহারের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
  5. পুরুষ লিঙ্গাগ্রচর্মছেদন (খৎনা) : এটির মাধ্যমে পুরুষের লিঙ্গ থেকে লিঙ্গত্বক্ (পুং-জননেন্দ্রিয় আবরক ত্বক) অস্ত্রোপচারের দ্বারা অপসারণ করা হয়।
  6. নিরাপদ রক্ত অনুমোদিত এবং ব্লাডব্যাংক থেকে শুধুমাত্র আহৃত হয়।
  7. বাবা-মা থেকে শিশুর মধ্যে এইচ আই ভি আক্রমণ ঠেকাতে এইচ আই ভি আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের কাউন্সেলিং (পেশাদারী পরামর্শ ) প্রয়োজন।

তথ্যসূত্রwww.nlm.nih.gov

  • PUBLISHED DATE : May 30, 2015
  • PUBLISHED BY : NHP CC DC
  • CREATED / VALIDATED BY : NHP Admin
  • LAST UPDATED ON : Sep 11, 2015
The content on this page has been supervised by the Nodal Officer, Project Director and Assistant Director (Medical) of Centre for Health Informatics. Relevant references are cited on each page.