গনোরিয়া

গনোরিয়া হল নাইসেরিয়া গনোরিয়া নামক জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌনবাহিত সংক্রমণ। এই রোগ সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়। গনোরিয়া সৃষ্টিকারী জীবাণুর আক্রমণের ফলে যৌনাঙ্গ, মুখ এবং পায়ুগহ্বরে সংক্রমণ ছড়ায়। গনোরিয়া সাধারণত সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে যোনি, মৌখিক বা পায়ু সঙ্গমের সময় অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কোনও অন্তঃসত্ত্বা মহিলা যদি এই রোগে আক্রান্ত হন, প্রসবের সময় তাঁর সন্তানের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। পুরুষদের মধ্যে সাধারণ লক্ষণগুলি হল প্রস্রাবের সময় জ্বালা করা এবং যৌনাঙ্গ দিয়ে পুঁজ নির্গত হওয়া। অন্যদিকে মহিলাদের ক্ষেত্রে অর্ধেক সময় কোনও উপসর্গ দেখা যায় না, যোনি স্রাব এবং শ্রোণীতে ব্যথা হয়। পুরুষ এবং মহিলাদের উভয় ক্ষেত্রেই যদি গনোরিয়ার চিকিৎসা না করা হয় তবে স্থানীয়ভাবে বা সারা শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে এপিডিডাইমিটিস বা শ্রোণী প্রদাহজনিত রোগ এবং অস্থিসন্ধিসমূহ এবং হার্টের ভাল্বকে প্রভাবিত করে।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk
www.cdc.gov
www.who.int
www.nlm.nih.gov
www.niad.nih.gov

 

পুরুষ: যে সমস্ত পুরুষ গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি অনুভব করতে পারেন:

  • পুরুষাঙ্গ দিয়ে অস্বাভাবিক সাদা, হলুদ বা সবুজ রঙের স্রাব নির্গত হয়।
  • প্রস্রাব করার সময় জ্বালা বা পোড়া অনুভূত হওয়া।
  • পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের আবরক ত্বকের প্রদাহ (ফুলে যাওয়া)।
  • অণ্ডকোষ বা প্রস্টেট গ্রন্থিতে ব্যথা (যদিও এটি বিরল)।

মহিলা: মহিলাদের মধ্যে গনোরিয়ার লক্ষণগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে:

  • যোনি থেকে সবুজ বা হলুদ রঙের ঘন স্রাব নির্গত হয়।
  • প্রস্রাবের সময় যন্ত্রণা।
  • তলপেটে ব্যথা অনুভূত হয় (সচরাচর দেখা যায়না)।
  • মাসিক রজঃস্রাবের সময় অত্যধিক রক্তপাত (সচরাচর দেখা যায়না)।

পুরুষ এবং মহিলা: পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের শরীরের অন্যান্য অংশেও গনোরিয়ার উপসর্গ দেখা যেতে পারে। যেমন:

  • মলদ্বারের আশেপাশে ব্যথা, অস্বস্তি বা স্রাব সৃষ্টি করে।
  • গলা, যার সাধারণত কোনও লক্ষণ থাকে না।
  • চোখ, যার থেকে ব্যথা, ফোলাভাব, জ্বালা হতে পারে (কনজাক্টিভাইটিস)।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk

 

নাইসেরিয়া গনোরিয়া নামক জীবাণুর কারণে গনোরিয়া হয়। গনোরিয়া সাধারণত সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে যোনি, মৌখিক বা পায়ু সঙ্গমের সময় অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগের ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত পুরুষ বা মহিলার যৌনাঙ্গ থেকে নির্গত স্রাবের মধ্যে পাওয়া যায়। অন্তঃসত্ত্বা মহিলার প্রসবের সময় এই রোগ মায়ের থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রামিত হতে পারে। সদ্যজাত শিশুর চোখে সংক্রমণ হতে পারে, যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা করানো না হয়, তবে শিশুটি অন্ধ(blindness)হয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র- www.niaid.nih.gov

গনোরিয়া ‘গ্রাম স্টেন’ বা ব্যাকটিরিয়া কালচারের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়, তবে নতুন পলিমেরাজ চেন রিয়্যাকশন (পিসিআর) ভিত্তিক পরীক্ষার পদ্ধতিগুলি আরও প্রচলিত হয়ে উঠছে।

এছাড়াও রোগ নির্ণয় এবং নিশ্চিতকরণের জন্য, আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

তথ্যসূত্র- www.cdc.gov
www.niaid.nih.gov

গনোরিয়ার জন্য দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজনীয়। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের একটি ডোজ দিয়ে গনোরিয়ার চিকিৎসা করা যেতে পারে:

  • সেফট্রায়োক্সো
  • সেফিক্সিম
  • স্পেকটিনোমাইসিন
  • সঙ্গী বা সঙ্গিনীর মধ্যে গনোরিয়ার কোনও উপসর্গ দেখা না গেলেও গনোরিয়ার চিকিৎসা করাতে হবে।

চিকিৎসার জন্য অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk

কনডম ব্যবহার করে এবং একজন সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা যায়।

  • PUBLISHED DATE : Jan 15, 2020
  • PUBLISHED BY : NHP Admin
  • CREATED / VALIDATED BY : Paulami
  • LAST UPDATED ON : Jan 15, 2020

Discussion

Write your comments

This question is for preventing automated spam submissions
The content on this page has been supervised by the Nodal Officer, Project Director and Assistant Director (Medical) of Centre for Health Informatics. Relevant references are cited on each page.