এন্ডোমেট্রিওসিস

ভূমিকা

এন্ডোমেট্রিওসিস হল জরায়ুর বাইরে  কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (এন্ডোমেট্রিওক্যাল কোষ) ,  যা সাধারণত জরায়ুর ভিতরে থাকে । এই রোগ ডিম্বনালি, ডিম্বাশয়, মূত্রাশয়, অন্ত্র, কোষ বা মলদ্বারে বৃদ্ধি পেতে পারে।    

জরায়ু গহ্বর এন্ডোমেট্রিওক্যাল কোষের সাথে যে  রেখা যুক্ত থাকে, তা স্ত্রী হরমোনগুলির প্রভাবের প্রভাবিত হয়। জরায়ুর  (এন্ডোমেট্রিওসোসিস) বাইরে অবস্থিত এন্ডোমেট্রিওক্যাল-কোষগুলি হরমোনের পরিবর্তনের ফলে প্রভাবিত হয় এবং জরায়ুর ভিতরে থাকা কোষগুলিও অনুরূপ  প্রতিক্রিয়া দেয়।  ঋতুচক্রের সঙ্গে সঙ্গে এন্ডোমেট্রিওসিসের লক্ষণগুলি আরও প্রকট হয়। এই "ভুল স্থানে স্থানান্তরিত" কলার কারণে পেটে ব্যথা, বন্ধ্যাত্ব, এবং ঋতু চলাকালীন  খুব বেশি রক্তপাত  হতে পারে। সাধারণত ব্যাথা পেটে, শিরদাঁড়ার নিম্নভাগে এবং শ্রোণি এলাকায় অনুভূত  হয়। এন্ডোমেট্রিওসিসের  কোন প্রতিকার নেই, তবে এটি ব্যথার ওষুধ,  বিভিন্ন হরমোন প্রয়োগ চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচার-সহ বিভিন্ন উপায়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে।

তথ্য নির্দেশ- www.nlm.nih.gov
www.womenhealth.gov
www.nhs.uk

 

লক্ষণঃ

এন্ডোমেট্রিওসিসের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হল ক্রমাগত শ্রোণি অঞ্চলে যন্ত্রণা বৃদ্ধি পাওয়া।  

  •  শ্রোণি অঞ্চলের উভয় পাশে মৃদু থেকে গুরুতর ব্যথা হয়, শিরদাঁড়ার নিচের অংশে, পায়ুদ্বারে, এমনকি যৌনমিলনের পরেও অসহ্য যন্ত্রণা হয়।
  •  অন্ত্রে যন্ত্রণা
  • ঋতুকালীন সময়ে মূত্র বা মল ত্যাগের সময়ে  যন্ত্রণা
  • যন্ত্রণাদায়ক ঋতু বা ঋতুকালীন সময়ে অত্যধিক রক্তপাত
  • বন্ধ্যাত্ব
  • ক্লান্তি
  • ডায়েরিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, দমবন্ধ লাগা।

তথ্য নির্দেশ- www.womenhealth.gov

 

কারণ –  

  • পশ্চাদগামী ঋতুস্রাব ( রেট্রোগ্রেড ঋতুস্রাব) - পশ্চাদগামী ঋতুস্রাব তত্ত্ব হল (একে ইমপ্লান্টেশন তত্ত্ব বা প্রতিস্থাপন তত্ত্বও বলা হয়) এন্ডোমেট্রিওসিসের  মধ্যে ‘একটোপিক  এন্ডোমেট্রিয়াম’ গঠনের জন্য সর্বাধিক ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব। এই প্রক্রিয়ায় কোনও  মহিলার মাসিক ঋতুস্রাবের বেশ কিছু এন্ডোমেট্রিয়াল ধ্বংসাবশেষ  পুনরায় ডিম্বনালিগুলির মাধ্যমে গর্ভাশয়ে বেরিয়ে আসে এবং পেরিটিনল পৃষ্ঠে  (পেটের গহ্বরের আস্তরণের) সংযুক্ত হয় যেখানে এটি এন্ডোমেট্রিওসিস হিসাবে কলাগুলিকে আক্রমণ করতে পারে।
  • পরিবেশগত প্রভাব- এন্ডোমেট্রিওসিসের আরেকটি অন্যতম প্রধান কারণ বিষাক্ত পরিবেশ, যেমন ডাইঅক্সিন ( রাসায়নিক উপজাত দ্রব্য)  আমাদের শরীর এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে।
  • উদ্ভব সম্বন্ধীয় কারণ- কখনও কখনও এন্ডোমেট্রিওসিসকে উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত বলে মনে করা হয় যার অর্থ পারিবারিক সদস্যদের জিনের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে এই রোগ হতে পারে। এটি শ্বেতবর্ণ মহিলাদের তুলনায় এশিয়ার মহিলাদের মধ্যে আরও সাধারণ।

এটি রক্ত প্রবাহ বা লসিকানালীতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে: এন্ডোমেট্রিওসিস কোষগুলি রক্ত প্রবাহ বা লসিকানালীতেও (নালী , গ্রন্থি এবং অঙ্গগুলির একটি নিজস্ব ব্যবস্থা যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে দেহের প্রতিরোধকারী অংশ) আক্রমণ করতে পারে বলে মনে করা হয়। কয়েকটি বিরল ক্ষেত্রে এই তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করা যায়, কারণ কোষগুলি চোখের বা মস্তিষ্কের মতো জটিল স্থানে পাওয়া যায়।

তথ্য নির্দেশ-www.nhs.uk

 

রোগ নির্ণয়-

কোনও কোনও রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত ইতিহাস এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরই চিকিৎসকেরা অনুমান করেন যে, রোগীর এন্ডোমেট্রিওসিস হয়েছে।

  • ল্যাপরোস্কপি- একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি যেখানে পেটের গহ্বরের ভিতরে একটি ক্যামেরা ঢুকিয়ে পরিস্থিতি বোঝা হয়। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সোনার মান হিসাবে পরিচিত এই পদ্ধতি। তবে আক্রমণাত্মক প্রকৃতির কারণে এটি স্ত্রীরোগ চর্চায়  অপ্রচলিত।
  • আলট্রাসাউন্ড – এন্ডোমেট্রিওসিস থেকে ডিম্বাশয়ে কোনও সিস্ট হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য চিকিৎসকেরা আলট্রাসাউন্ড করে দেখেন। যোনির আলট্রাসাউন্ডের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা রোগীর যোনির মধ্যে ছোট সরু লাঠির মত একটি স্ক্যানার প্রবেশ করান। শ্রোণীর আলট্রাসাউন্ডের ক্ষেত্রে পেটের উপরিভাগে স্ক্যানার ঘোরান হয়। জননাঙ্গের ছবি তুলতে দুটি ক্ষেত্রেই শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার হয়।
  • ম্যাগনেটিক রিসোন্যান্স ইম্যাজিং (এমআরআই) – শরীরের ভিতরের যে কোনও স্থানে ছবি তুলতে ‘এমআরআই’ আরেকটি অন্যতম প্রচলিত পদ্ধতি।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোনও তথ্য সহজে বুঝতে সাহায্য করে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য পোর্টাল’। কিন্তু রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে  অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তথ্য নির্দেশ- www.womenhealth.gov
www.nhs.uk

পরিচালনা-

যদিও এন্ডোমেট্রিওসিস রোগের কোনও নির্দিষ্ট প্রতিকার হয় না, তাও রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ দেখে চিকিৎসকেরা এই অসুখকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন।

  1. ব্যথা ঔষধ: যে সমস্ত মহিলাদের এন্ডোমেট্রিওসিসের স্বল্প লক্ষণ দেখা যায়, তাঁদের ব্যথা উপশম করার জন্য চিকিৎসকেরা নন-স্টেরিওডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যাম্টরি ড্রাগ (NSAIDS) গ্রহণ করার পরামর্শ দিতে পারেন। যেমন, আইবুফ্রেন বা ন্যাপ্রোক্সিন (অ্যালিভ)। যখন এই ওষুধগুলি সাহায্য করে না, তখন চিকিৎসকেরা  ব্যাথা কমানোর জন্য  আরও শক্তিশালী ‘পেন কিলার’ বা ব্যাথা কমানোর অসুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন।
  2. হরমোন চিকিৎসা : যখন ব্যথার ওষুধেও রোগীরা আরাম পান না, তখন এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা প্রায়ই ‘হরমোনাল’ ঔষধগুলি সুপারিশ করেন। কেবলমাত্র যে সকল মহিলারা গর্ভবতী হতে চান না, তারা এই ওষুধগুলি ব্যবহার করতে পারে। পিল, ইনজেকশন বা ন্যাসাল স্প্রে-সহ বিভিন্ন রূপে হরমোন অসুধগুলি ব্যবহার করা হয়।  হরমোন চিকিৎসাগুলির মধ্যে অন্তর্গত হল, মৌখিক গর্ভনিরোধক (জন্ম নিয়ন্ত্রণের ঔষধ), প্রজেসস্টেরন এবং প্রোজেস্টিন, গোনাডোট্রপিন-ক্ষরণকারী হরমোন অ্যাগনিস্ট এবং ড্যানজোল।
  3. অস্ত্রোপচার চিকিৎসা:  যে  সকল মহিলারা গুরুতর এন্ডোমেট্রিওসিসের শিকার হন, তাঁদের জন্য চিকিৎসকেরা  নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলি দিতে পারেন।
  • ল্যাপারস্কপি- এন্ডোমেট্রিওসিস নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা এন্ডোমেট্রিওসিস বৃদ্ধিকারী কলাগুলি ধংস করে দেন। এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের প্রধান লক্ষ্যই হল, যাতে স্বাস্থ্যকর এবং ভাল কলাগুলি নষ্ট না হয়।
  • ল্যাপরোটোমি- পেটের অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান হল ল্যাপরোটোমি। এক্ষেত্রে ল্যাপারস্কপির চেয়ে পেটে অনেক বেশি গভীর কাটা থাকে। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসকেরা পেটের যে স্থানে এন্ডোমেট্রিওসিসের বৃদ্ধি পেয়েছে সেখানে সহজে পৌঁছতে ও অপসারণ করতে পারেন।
  • হিসটেরেক্টোমি-  এটিও একধরনের অস্ত্রোপচার যেখানে চিকিৎসকেরা জরায়ু বাদ দেন। অনেক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা  ডিম্বাশয়গুলিও অপসারণ করতে পারেন, যাতে পুনরায় এন্ডোমেট্রিওসিস ফিরে না আসে। এন্ডোমেট্রিওসিস যখন মানবদেহের   অন্যান্য অঙ্গগুলিকেও গুরুতরভাবে ক্ষতি করে,  তখন এই পদ্ধতি সম্পন্ন করা হয়। এই অস্ত্রোপচারের পর একজন মহিলা আর গর্ভবতী হতে পারে না, তাই শুধুমাত্র শেষ উপায় হিসাবে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হতে পারে।

এ বিষয়ে আরও বিশদে জানতে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

তথ্য নির্দেশ- www.womenshealth.gov

 

জটিলতা-

এন্ডোমেট্রিওসিসের শিকার হলে যেসব জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলি হল

  • অন্তঃসত্ত্বা হতে গিয়ে নানা সমস্যা, জটিলতার শিকার, অথবা অন্তঃসত্ত্বা হতে না পারা।
  • কিছু ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ে সিস্ট বা অন্যত্র আঠালো সিস্ট তৈরি হয়।  

তথ্য নির্দেশ- www.nhs.uk

 

  • PUBLISHED DATE : Jan 29, 2019
  • PUBLISHED BY : NHP Admin
  • CREATED / VALIDATED BY : Paulami
  • LAST UPDATED ON : Jan 29, 2019

Discussion

Write your comments

This question is for preventing automated spam submissions
The content on this page has been supervised by the Nodal Officer, Project Director and Assistant Director (Medical) of Centre for Health Informatics. Relevant references are cited on each page.