অনিদ্রা

অনিদ্রা

ভূমিকা- অনিদ্রা হল একধরনের ব্যাধি বা বিশৃঙ্খলতা, যার ফলে ঘুম আসে না বা নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘুমোতে পারে না। ঘুমের চিকিৎসায়, মানসিক সমস্যায় অনিদ্রা সাধারণত একটি চিহ্ন এবং উপসর্গ হিসাবে দেখা যায়। যে কোনও বয়সের মানুষের অনিদ্রা হতে পারে, তবে এটি সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে লক্ষণীয়।

অনিদ্রার প্রকার- অনিদ্রা দুই প্রকারের হয়, তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী।

১) তীব্র অনিদ্রা-  এক মাসের কিছু সময় কম ধরে কোনও মানুষ যদি ঘুমাতে না পারেন, সেই অবস্থাকে আমরা তীব্র অনিদ্রা বলতে পারি। নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘুমাতে, ঘুমানোর কোনও উদ্যোগ না থাকলে, খুব পাতলা ঘুম বা ঘুমানোর পরও যদি ক্লান্ত লাগে, তাহলে বুঝতে হবে অনিদ্রা রোগ হয়েছে। আদর্শ ঘুমের পরিবেশ এবং সুযোগ থাকলেও তীব্র অনিদ্রায় রোগীরা রাতে ঘুমাতে পারেন না, ফলে দিনেরবেলা কাজ করতে অসুবিধা হয় তাঁদের। তীব্র অনিদ্রাকে স্বল্পস্থায়ী অনিদ্রা বা মানসিক চাপজনিত অনিদ্রাও বলা হয়।

২) দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা- এক মাসের বেশি স্থায়ী হয় দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা। অন্য কোনও ব্যাধি বা বিশৃঙ্খলতা থেকেও দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা হতে পারে। যে সমস্ত মানুষ খুব বেশি মানসিক চাপে থাকেন বা সাইটোকিন ক্ষরণের মাত্রার তারতম্য হয়, তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রায় ভোগার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিভিন্ন কারণে অনিদ্রার ফলাফলও আলাদা হয়। এর ফলে পেশিতে ক্লান্তি, বিভ্রম, মানসিকভাবে ক্লান্তি অনুভব করেন রোগীরা। যে সকল মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা বহুবার ভ্রমে পড়েছেন।  যে কোনও জিনিস খুব ধীর লয়ে দেখার প্রবণতা থাকে রোগীদের। দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রার ফলে কোনও মানুষ একই বস্তুর সদৃশ দেখেন।  

তথ্যসূত্র-www.cdc.gov
www.nhs.uk
www.nlm.nih.gov
www.nhlbi.nih.gov

 

উপসর্গ-

·         সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে যাওয়া, একবার ঘুম ভেঙে গেলে আর ঘুম না আসা।

·         রাতে বহুবার ঘুম ভেঙে যাওয়া

·         রাতে বহুক্ষণ জেগে থাকা

·         ক্লান্তি থাকা, ঘুমের পরেও তরতাজা অনুভব না করা

·         খিটখিটে হয়ে যাওয়া।  

 

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk

কারণ-

মানসিক চাপ- বেশ কিছু মানুষ মানসিক চাপের কারণে অনিদ্রায় ভোগেন। নিজের কর্মস্থল, অর্থ বা স্বাস্থ্য, প্রিয় মানুষের শারীরিক অসুস্থতা, এমনকি শব্দ এবং আলো থেকেও যে কোনও ব্যক্তি মানসিক চাপের শিকার হন। যার ফলে মানুষ রাতে জেগে থাকেন।

মনোরোগ সংক্রান্ত সমস্যা- অন্তর্নিহিত মানসিক সমস্যা থেকেও অনেক সময় ঘুমের অসুবিধা হয়। যেমন,

মেজাজ বা মনের ভাব পরিবর্তন, অবসাদ বা বাইপোলার ডিসঅর্ডার

উদ্বেগ বিশৃঙ্খলতা, সাধারণ দুশ্চিন্তা, আতঙ্ক  বা কোনও দুর্ঘটনার পর মানসিক চাপ

মানসিক বিশৃঙ্খলতা যেমন স্কিৎজোফ্রেনিয়া

পরিবেশ- অনিদ্রা হওয়ার পিছনে কিছু অন্তর্নিহিত কারণ থাকে,

  • হৃদযন্ত্রে সমস্যা
  • শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা যেমন ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিসিজ বা অ্যাজমা
  • বিভিন্ন স্নায়বিক রোগ, যেমন অ্যালঝাইমার্স বা পারকিন্সন
  • হরমোনের সমস্যা যেমন থাইরয়েড গ্রন্থির অতিসক্রিয়তা
  • পেশিতে বা গাঁটে ব্যাথা
  • ঘুমের সমস্যা মাঝে মাঝে আচ্ছন্ন হয়ে পড়া, নিদ্রাহীনতা, অশান্ত পা (রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম)  
  • অত্যধিক চা, কফি পান করলে ঘুমের সমস্যা হয়। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে  ক্যাফিন থাকে।    

চিকিৎসা-

বেশ কিছু ওষুধ রয়েছে যার থেকে অনিদ্রা হতে পারে। ওষুধগুলি হল-

  • অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট
  • মৃগীরোগের ওষুধ
  • হাইপারটেনসন বা রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে যে সব ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যেমন বেটা-ব্লকার
  • হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা
  • নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি
  • অ্যাজমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বেশ কিছু ওষুধ যেমন, সালবুটামল, সালমেটেরল, থিয়োফাইলিন

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk
 

রোগ নির্ণয়-

ঘুমের বিবরণ- রোগীর ঘুমের বিবরণ বা ইতিহাস সম্পর্কে চিকিৎসক জানতে চাইতে পারেন।  

চিকিৎসার ইতিহাস- রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধান করতে হবে,

  • নতুন বা পুরনো কোনও শারীরিক সমস্যা
  • কোনরকম আঘাত বা আর্থারাইটিসের মত ব্যাথা, যন্ত্রণা
  • প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ কেনা
  • রোগী আগে কখনও অবসাদ বা উদ্বেগে ভুগেছিলেন কিনা
  • জীবনে অত্যন্ত মানসিক চাপ, ডিভোর্স বা প্রিয়জনের মৃত্যুর মত ঘটনা

এই তথ্যগুলি দেওয়া হল বোঝার জন্য। যদি কারও এই ধরনের উপসর্গ থাকে, তাহলে অবশ্যই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কাছে যান।

তথ্যসূত্র- www.nhlbi.nih.gov

 

পরিচালনা-

জ্ঞানীয় এবং আচরণগত চিকিৎসা- অনিদ্রা রোগের মোকাবিলার জন্য রোগীর জ্ঞানীয় এবং আচরণগত চিকিৎসা (সিবিটি) করা হয়। যখন কারও চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ঘুমের সমস্যা হয়, তখন সিবিটি করানো হয়। এই চিকিৎসার মধ্যে পড়ে-

উদ্দীপনা- নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসা- যার প্রধান লক্ষ্য হল শোয়ার ঘরকে উপযুক্ত করে তোলা এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘুমের ব্যবস্থা করা।

সীমিত ঘুমের চিকিৎসা- বিছানায় একজন মানুষ যতক্ষণ শুয়ে থাকবে, ততক্ষণ ঘুমানো হল ঘুমের আসল সময়। মাঝে মাঝে ওই পুরো সময় ঘুমানো যাবে না, ফলে ঘুমের মান বৃদ্ধি পাবে অর্থাৎ ঘুম গভীর হবে।    

বিনোদন চিকিৎসা- এর প্রধান লক্ষ্য হল রোগীর উদ্বেগ, মানসিক চিন্তা কমানো। কারণ উদ্বেগ এবং মানসিক চিন্তা ঘুমের প্রধান অন্তরায়।  

আপাতবিরোধী ইচ্ছা-  জেগে থাকার চেষ্টা করুন, শুয়ে পরবেন না। এর ফলে যখন ঘুমাতে যাবেন, ভাল ঘুম হবে। তবে এই পদ্ধতি তখনই অবলম্বন করা উচিৎ যখন কারও ঘুমাতে অসুবিধা হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ ঘুমানোর জন্য নয়।

বায়োফিডব্যাক- এই পদ্ধতিতে শরীরের সঙ্গে একটি সেন্সর লাগানো থাকে, যার থেকে পেশি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, হৃদপিন্ডের গতি ঠিক আছে কিনা বোঝা যায়। এই যন্ত্রটি শ্বাসপ্রশ্বাসের সুবিধা, বা শরীরের প্রতিক্রিয়া জানাতে  ছবি তুলতে বা শব্দ গ্রহণে সক্ষম।

এই তথ্যগুলি দেওয়া হল বোঝার জন্য। যদি কারও এই ধরনের উপসর্গ থাকে, তাহলে অবশ্যই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কাছে যান।

তথ্যসূত্র-  www.nlm.nih.gov
www.nhs.uk

  • PUBLISHED DATE : Apr 16, 2019
  • PUBLISHED BY : NHP Admin
  • CREATED / VALIDATED BY : Paulami
  • LAST UPDATED ON : Apr 16, 2019

Discussion

Write your comments

This question is for preventing automated spam submissions
The content on this page has been supervised by the Nodal Officer, Project Director and Assistant Director (Medical) of Centre for Health Informatics. Relevant references are cited on each page.