উদ্বেগ

উদ্বেগ অস্বস্তি ও মানসিক চাপের একটি অপ্রীতিকর মানসিক অবস্থা।  এটি সাধারণত: বোধশক্তি এবং চিন্তা দ্বারা চিহ্নিত হয়।  উদ্বেগ রোগ ব্যক্তিবিশেষের উপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ এই রোগের মধ্যে দিয়ে যায় এবং শেষ হয় হতাশায়। 
 
এই রোগের সতর্কতা-সংকেতগুলোর মধ্যে পড়ে :
১.প্রচণ্ড ভয় বা আশঙ্কা
২.চাঞ্চল্য/চপলতা 
৩.সহজে ক্লান্ত হওয়া 
৪.ঘুমে ব্যাঘাত ঘটা 
৫.ক্ষুধা এবং ওজনে বিশৃঙ্খলা ঘটা 
 
তথ্যসূত্র: www.nhs.uk
www.cdc.gov
www.nimh.nih.gov
ebook-hcfi

উপসর্গেগুলোর  মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
  • অবসাদ
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া 
  • পেটের যন্ত্রনা 
  • ঘুমের ব্যাঘাত এবং মাথাব্যাথা
  • পেশীতে টান এবং পেশীতে ব্যথা 
  • খাবার গিলতে অসুবিধা
  • কাঁপুনি হওয়া এবং খিটখিটে বোধ করা 
  • আকস্মিক ঝাঁকুনি অনুভব করা 
  • ঘাম হওয়া এবং হঠাৎ গরম অনুভব করা 
 
তথ্যসূত্র : www.nimh.nih.gov

উদ্বেগের সঠিক কারণ এখনও জানা যায় নি। 
গবেষকরা উদ্বেগের কারণ হিসাবে মস্তিষ্কে কিছু রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতার কথা বলেন যা  নিউরোট্রান্সমিটার নামে পরিচিত । 
উদ্বেগ রোগের অন্যান কারণগুলি হল:
  • বেশিরভাগ লোকের উদ্বেগ হয় যখন তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসে যেমন, নতুন চাকরী শুরু করা, বিয়ে হওয়া, শিশুর জন্ম হওয়া, থাকা বা কারুর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়া। 
  • কিছু কিছু ওষুধের ব্যবহারের ফলে উদ্বেগ রোগের সৃষ্টি হতে পারে। এই ওষুধগুলি হল হাঁপানি চিকিৎসার জন্য ইনহেলার ওষুধের ব্যবহার, থাইরয়েড চিকিৎসার ওষুধ, খাদ্য নিয়ন্ত্রনকারী ওষুধ। 
  • ক্যাফিন, মদ এবং তামাকজাত দ্রব্য গ্রহন করা উদ্বেগ রোগের কারণ হতে পারে.
তথ্যসূত্র : www.nhs.uk
 

লক্ষণ বা উপসর্গের ভিত্তিতে  এই রোগ নির্ণয় করা যায়।  মানসিক মূল্যায়ণ রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।
উদ্বেগ রোগের চিকিৎসায় মানসিক চিকিৎসা, ঔষধ বা উভয়ই  প্রযুক্ত হতে পারে। 
মানসিক চিকিৎসা : এই ধরণের চিকিৎসাকে বলা হয় 'আচরণগত চিকিৎসা' যা  উদ্বেগ রোগের চিকিৎসায় বিশেষভাবে কার্যকরী। এটি একজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন অবস্থাতে অন্যভাবে ভাবতে, আচরণ করতে, প্রতিক্রিয়া করতে সাহায্য করে যাতে সে কম উদ্বিগ্ন এবং কম ভীতি অনুভব করে।
ওষুধ : কিছু সময়ে চিকিৎসকরা উদ্বেগের চিকিৎসায় ওষুধ ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।  উদ্বিগ্নতা বিরোধী এবং মানসিক অবসাদ বিরোধী দু ধরনের ওষুধ রয়েছে। উদ্বেগ কাটানোর ওষুধগুলো  খুব শক্তিশালী হয় এবং এগুলো বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। কিছু কিছু ওষুধ সঠিকভাবে কাজ করে, কিন্তু এগুলো সাধারণত: দীর্ঘ সময় ধরে নেওয়া উচিত নয়।
উদ্বেগ বিরোধী ওষুধ মানসিক অবসাদের চিকিৎসাতে ব্যবহার করা হয়, তবে  কাজ শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। এসব ওষুধগুলো  নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পরে যেমন মাথার যন্ত্রণা,বমিবমি ভাব, ঘুমোতে না পারা। 
এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ যে যদিও মানসিক অবসাদ বিরোধী ওষুধ ব্যবহার করা নিরাপদ এবং কিছু লোকের ক্ষেত্রে ফলদায়ক হয়। তবুও,  এটির ব্যবহার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বিপদজনক হতে পারে বিশেষ করে  শিশু, কিশোর এবং কম বয়সীদের ক্ষেত্রে। তাই সমসময়  চিকিৎসকের পরামর্শমত নেওয়া উচিত।
তথ্যসূত্র :  www.nimh.nih.gov
 www.nhs.uk
 

আজকের জীবনে প্রত্যেক মানুষই নানাবিধ মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন । একজন ব্যক্তি যোগ-ব্যায়াম, ধ্যান, খেলাধূলো  ও গানবাজনার মাধ্যমে মানসিক চাপকে এড়াতে পারেন। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত অবসর সময়ে বিনোদন ও শখের মধ্যে দিয়ে আনন্দের সঙ্গে নিজেদের সময় কাটানো।

  • PUBLISHED DATE : Nov 23, 2015
  • PUBLISHED BY : Zahid
  • CREATED / VALIDATED BY : Satyabrata
  • LAST UPDATED ON : Nov 23, 2015

Discussion

Write your comments

This question is for preventing automated spam submissions
The content on this page has been supervised by the Nodal Officer, Project Director and Assistant Director (Medical) of Centre for Health Informatics. Relevant references are cited on each page.