কারপাল টানেল সিনড্রোম

কারপাল টানেল সিনড্রোম

হাত এবং আঙুলে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া, অসাড় হয়ে যাওয়া, ঝিনঝিন করা- এই সমস্যাগুলি সাধারণত যে রোগের কারণে দেখা যায়, তা হল কারপাল টানেল সিনড্রোম (সিটিএস)। এই উপসর্গগুলি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং রাতের বেলা অবস্থা আরও খারাপ হয়। এই রোগের বৃদ্ধাঙ্গুলি, তর্জনী, মধ্যমা এবং অনামিকার অর্ধেক অংশকে প্রভাবিত করার প্রবণতা থাকে। এটি কব্জির মধ্যম স্নায়ুর (মিডিয়ান নার্ভ) উপর চাপের কারণে হয়।

তথ্যসূত্র-

www.nhs.uk
www.nlm.nih.gov
www.ninds.nih.gov

এই রোগের তিনটি প্রধান উপসর্গ হল,

  • হাতে ঝিনঝিন ধরা
  • অবশ হয়ে যাওয়া
  • যন্ত্রণা

এই তিনটে উপসর্গ প্রধানত বুড়ো আঙুল, তর্জনী, মধ্যমা এবং অনামিকার অর্ধেক অংশে দেখা যায়।

  • এছাড়া আরও কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে,
  • হাতে পিন এবং সুচ ফোটালে যেরকম অনুভূতি হয় সেই রকম জ্বালা অনুভূত হওয়া (প্যারাসেথেসিয়া)।
  • হাতের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, ত্বকের রঙ পরিবর্তিত হয় এবং হাত ফুলে যেতে পারে।
  • হাত মুঠো করার সময় বুড়ো আঙুল অসাড় হয়ে যায়।
  • বুড়ো আঙুলের পেশিগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র- www.ninds.nih.gov

 

কব্জির মধ্যম স্নায়ুতে দীর্ঘদিন চাপ পড়লে, কারপাল টানেল সিনড্রোমের উপসর্গগুলি দেখা যায়।

ঝুঁকির বিষয়-

  • পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের কোনও সদস্যের যদি সিটিএস হওয়ার ইতিহাস থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তির সিটিএস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • ডায়াবেটিস বা অপ্রচলিত থাইরয়েড গ্রন্থির মত স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে, সিটিএসের ঝুঁকি থাকে।
  • গর্ভাবস্থা।
  • কব্জিতে আঘাত: হাতে আঘাত থেকে কারপাল টানেল সিনড্রোম হতে পারে।
  • হাত মচকানো, ভেঙে যাওয়া এবং আঘাতের কারণে হাত ফুলে যেতে পারে, মধ্যম স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk

 

শারীরিক পরীক্ষা: এক মিনিটের জন্য কব্জি হালকা করে নুইয়ে রাখা বা এক মিনিটের জন্য মাথার উপরে ধরে রাখা- সিটিএস নির্ণয়ের জন্য এই ধরনের সাধারণ পরীক্ষা করা হয়, এবং যদি আপনার এই রোগ থাকে তাহলে ওই নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে হাত তুলে ধরলে ব্যথা, অসাড়তা, ঝিনঝিন বাড়তে পারে।

ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (ইএমজি): এটি কোনও স্নায়ু উদ্দীপিত হলে পেশিগুলি কীভাবে প্রতিক্রিয়া করে সেই সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে, স্নায়ুর ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়।

তথ্যসূত্র-

www.nhs.uk

কব্জি স্প্লিন্টস: কব্জি যাতে জোর পায় এবং একই অবস্থানে রাখা যায় সেজন্য রাতে সাধারণত একটি কব্জি স্প্লিন্টস ব্যবহার করা হয়। কব্জিকে বেঁকে যেতে বাধা দেয় স্প্লিন্টস। এর ফলে মধ্যম স্নায়ুতে চাপ পড়তে পারে এবং লক্ষণগুলি বেড়ে যেতে পারে।

কর্টিকোস্টেরয়েড্‌স: শক্তিশালী রাসায়নিক হিসাবে স্টেরয়েডগুলি প্রদাহ হ্রাস করতে সাহায্য করে।

অস্ত্রোপচার: সিটিএসের জন্য অস্ত্রোপচার কারপাল টানেল ডেকম্প্রেশন বা কারপাল টানেলের রিলিজ সার্জারি হিসাবে পরিচিত। সাধারণত কোনও রোগী একটানা ছয়মাসের বেশি সময় ধরে এই রোগে ভুগলে অস্ত্রোপচার করা হয়।   শল্য চিকিৎসার সময় কারপাল টানেলের উপরের অংশটি যা কারপাল লিগামেন্ট হিসাবে পরিচিত, মধ্যম স্নায়ুর উপর চাপ কমাতে তা কাটা হয়।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk

কারপাল টানেল সিনড্রোম প্রতিরোধের উপায় হল,

  • হাত এবং কব্জির উপরে যাতে সমানভাবে চাপ পড়ে, সেই কারণে হাত এবং কব্জি নাড়াচাড়া করতে হবে।
  • হাত এবং আঙুলের পেশিগুলিকে শক্তিশালী এবং নমনীয় রাখতে হবে।
  • স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করতে হবে।
  • কাজের ফাঁকে বিরতি নিন, হাতের কব্জি সোজা রাখার জন্য স্প্লিন্টস ব্যবহার করুন, সঠিক ভঙ্গিতে বসার চেষ্টা করুন।
  • কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং কর্মচারীর দক্ষতা অনুযায়ী কাজের দাবির মধ্যে মেলবন্ধন করানোর জন্য নিয়োগকর্তারা কর্মদক্ষতার বিকাশমূলক কর্মসূচির আয়োজন করতে পারেন।

তথ্যসূত্র-  

www.ninds.nih.gov

  • PUBLISHED DATE : Jan 20, 2020
  • PUBLISHED BY : NHP Admin
  • CREATED / VALIDATED BY : Paulami
  • LAST UPDATED ON : Jan 20, 2020

Discussion

Write your comments

This question is for preventing automated spam submissions
The content on this page has been supervised by the Nodal Officer, Project Director and Assistant Director (Medical) of Centre for Health Informatics. Relevant references are cited on each page.