মেনিনজাইটিস

আমাদের মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের বাইরের দিকে যে সূক্ষ্ম টিস্যুর স্তরের আবরণ রয়েছে, তাকে মেনিনজেস বলে। এই টিস্যু স্তরের আবরণে সংক্রমণের ফলে প্রদাহ হয়, যাকে আমরা মেনিনজাইটিস বলি। মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের চারপাশে থাকা তরলে সংক্রমণ হলে তা মেনিনজাইটিসের প্রদাহকে আরও বৃদ্ধি করে। পৃথক কারণের উপর অসুস্থতার তীব্রতা এবং মেনিনজাইটিসের চিকিৎসা  নির্ভর করে। তাই, মেনিনজাইটিসের নির্দিষ্ট কারণ জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র- www.who.int
www.cdc.gov
www.nhs.uk
www.youtube.com

 

 

 

মেনিনজাইটিসের সাধারণ লক্ষণ হল তীব্র মাথা যন্ত্রণা, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।

প্রাথমিক লক্ষণ:

  • জ্বর।
  • তীব্র মাথা যন্ত্রণা।
  • বমিভাব এবং বমি।
  • হাত বা পায়ের পেশী, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা।
  • হাত, পা অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা হয়ে যায়, বা কাঁপুনি।
  • ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং ঠোঁটের রঙ নীল হয়ে যায়।

পরবর্তী লক্ষণগুলি:

  • তন্দ্রাচ্ছন্নভাব।
  • দ্বিধা।
  • খিঁচুনি।
  • উজ্জ্বল আলো সহ্য করতে পারে না (ফটোফোবিয়া)- এই লক্ষণ সাধারণত কম বয়সি শিশুদের মধ্যে দেখা যায়।
  • ঘাড় শক্ত হয়ে যায়- বাচ্চাদের মধ্যে এই লক্ষণ সচরাচর দেখা যায় না।
  • দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাসের হার।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk

মেনিনজাইটিস সাধারণত অণুজীবের সংক্রমণের কারণে হয়। ব্যাকটিরিয়া, ছত্রাক এবং প্রোটোজোয়া সহ ভাইরাসজনিত কারণে বেশিরভাগ সংক্রমণ হয়।

পাঁচ রকমের মেনিনজাইটিস হয়:

  • ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস, নিসেরিয়া মেনিনজাইটিস বা স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি প্রাণঘাতী হতে পারে, তাই চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
  • ভাইরাল মেনিনজাইটিস, ভাইরাসের কারণে হয় যা হাঁচি, কাশি এবং অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্যবিধির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
  • প্যারাসাইট মেনিনজাইটিস, প্রাথমিক অ্যামিওবিক মেনিঙ্গএনসেফালাইটিস (পিএএম) প্যারাসাইট মেনিনজাইটিসের একটি খুব বিরল রূপ যা মস্তিষ্কে প্রাণঘাতী সংক্রমণ সৃষ্টি করে।
  • ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিস, ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিস বিরল এবং মেনিনজেসে রক্ত দ্বারা বাহিত হয়। যে কোনও মানুষ ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হতে পারেন, তবে এডস্‌, ডায়াবেটিস বা ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাঁদের এই রোগ হওয়ার বেশি ঝুঁকি থাকে।
  • অসংক্রামক মেনিনজাইটিস, একজন মানুষের থেকে অন্য জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে না, তবে অসংক্রামক মেনিনজাইটিস হওয়ার কারণ হল,    

১) ক্যানসার।

২) সিস্টেমেটিক লুপাস এরিথিমেটোসাস (লুপাস)।

৩) কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ।

৪) মাথায় আঘাত।

৫) মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার।

তথ্যসূত্র- www.cdc.gov

মেনিনজাইটিস রোগ নির্ণয় করার জন্য নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলি করা যেতে পারে:

  • রক্ত পরীক্ষা- রক্তে কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কিনা, তা দেখা হয়।
  • লুম্বার পাংচার- মস্তিষ্কসুষুম্না তরল (সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড) সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয় সেখানে কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস রয়েছে কিনা।
  • কম্পিউটারাইজড্‌ টমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যান- মস্তিষ্কে কোনও সমস্যা আছে কিনা দেখার জন্য সিটি স্ক্যান করা হয়।
  • সংক্রমণের লক্ষণগুলি বুঝতে বুকের এক্স-রে করা হয়।        

স্বাস্থ্যেকে আরও ভালভাবে বোঝার জন্য ‘জাতীয় স্বাস্থ্য প্রবেশদ্বার’ লক্ষণযুক্ত  তথ্য সরবরাহ করে। রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk

 

মেনিনজাইটিস একটি প্রাণঘাতী রোগ এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে মৃত্যুও হতে পারে।

ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস:

সেফালোস্পরিনস্‌- এর মত অ্যান্টিবায়োটিক ভাল কাজ করে। এছাড়া, ক্লোরামফেনিকল একা বা অ্যাম্পিসিলিনের সঙ্গেও এই রোগ সারাতে সাহায্য করে।

ভাইরাল মেনিনজাইটিস:

ভাইরাসজনিত মেনিনজাইটিস ব্যাকটিরিয়া মেনিনজাইটিসের মত প্রাণঘাতী নয়। এটিতে কেবল সহায়ক থেরাপি প্রয়োজন কারণ মেনিনজাইটিস সৃষ্টিকারী বেশিরভাগ ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসা উপযুক্ত নয়।

ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিস:

ক্রাইপ্টোকক্কাল বা কোক্সিডায়োডস মেনিনজাইটিসের মতো ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিসের চিকিৎসায় চড়া মাত্রায় অ্যান্টিফাঙ্গালগুলি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়।

অসংক্রামক মেনিনজাইটিস:  

অসংক্রামক মেনিনজাইটিস কর্টিসোন ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে। কিছুক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে না এবং নিজে থেকে ঠিক হয়ে যায়।

স্বাস্থ্যেকে আরও ভালভাবে বোঝার জন্য ‘জাতীয় স্বাস্থ্য প্রবেশদ্বার’ লক্ষণযুক্ত  তথ্য সরবরাহ করে। রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk

কিছু জটিলতা দেখা যেতে পারে:

  • আংশিক বা পূর্ণ শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়।
  • স্মৃতিশক্তি এবং মনঃসংযোগে সমস্যা হয়।
  • সমন্বয় এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা দেখা যায়।
  • শিক্ষা অর্জনে জটিলতা সৃষ্টি হয়, আংশিক বা পূর্ণ দুই হতে পারে।
  • মৃগীরোগ/মূর্ছা।
  • সেরিব্রাল পালসি- রোগীর চলাফেরা এবং সমন্বয়কে প্রভাবিত করে, তাঁর অবস্থা বোঝাতে একটি সাধারণ পরিভাষা।
  • কথা বলতে অসুবিধা।
  • আংশিক বা পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk

  • PUBLISHED DATE : Feb 25, 2020
  • PUBLISHED BY : NHP Admin
  • CREATED / VALIDATED BY : Paulami
  • LAST UPDATED ON : Feb 25, 2020

Discussion

Write your comments

This question is for preventing automated spam submissions
The content on this page has been supervised by the Nodal Officer, Project Director and Assistant Director (Medical) of Centre for Health Informatics. Relevant references are cited on each page.