একজিমা

একজিমা

ভূমিকা-

একজিমাকে প্রায়শই ‘অ্যাটোপিক ডারমাটাইটিস’ বলা হয়। ত্বকের স্থায়ী সমস্যাকেও আমরা একজিমা বলে উল্লেখ করতে পারি। রুক্ষ ত্বক, গায়ে হাতে র‍্যাশ, ফুসকুড়ি ছাড়াও অন্য উপসর্গগুলি হল-  

  • আঁচড়ে যাওয়া
  • লালভাব

শিশুদের (ইনফ্যান্টাইল) একজিমাকেও অ্যাটোপিক ডারমাটাইটিস বলা হয়। শিশুদের এই একজিমা কখনও কখনও বাল্যকাল, কৈশোরকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়, শরীরের যেকোনও জায়গায় একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সাধারণত মুখে, মাথার ত্বকে ফুসকুড়ি, র‍্যাশ থেকে ক্ষরণ হয়। এই র‍্যাশ বা ফুসকুড়িগুলি ছোটবেলায় বেশি খসখসে থাকে, বড় হওয়ার সাথে সাথে বা কৈশোরে এগুলি মোটা হয়ে যায়। যদিও চুলকানি বন্ধ হয় না।  

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk
www.niams.nih.gov
www.nlm.nih.gov
www.eczema.or

 

 

উপসর্গ-

অ্যাটোপিক ডারমাটাইটিস থাকলে রোগী খুব সহজেই বিরক্ত হয়ে পড়ে, খাবার বা পরিবেশগত কারণে অ্যালার্জির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে

  • লালভাব
  • ফুলে যাওয়া
  • চুলকানি এবং শুষ্কতা
  • ফাটা ত্বক
  • চামড়া ওঠা
  • ফোসকা ফুলে ওঠা
  • ফোসকা থেকে তরল পদার্থ ক্ষরণ বা রক্তপাত হয়

অনেকসময় বলা হয় ‘চুলকানি থেকে র‍্যাশ হয়’, কারণ দীর্ঘদিন চুলকানির ফলে ত্বক খারাপ হয়ে যায়, যার থেকে পরবর্তীকালে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হয়।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk

কারণ-

একজিমা কেন হয়, তার প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও, বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যার ফলে একজিমা হয়।

জিনগত- বিভিন্ন পরীক্ষাপ্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী বলা যায় যে,  অ্যাটোপিক ডারমাটাইটিস উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়। যে কোনও জাতির মানুষের একজিমা হতে পারে।

হিস্টামিন অসহিষ্ণুতা- অ্যাটোপিক ডার্মাইটিসিস রোগে আক্রান্ত মানুষের উপসর্গগুলি শরীরের বাইরে থেকে হিস্টামাইনের উৎস দ্বারা প্রভাবিত হয়, যার ফলে হিস্টামিন চুলকানি এবং অস্বস্তি তৈরি করে। যেমন টম্যাটো, পালং শাক, বেগুন হিস্টামিনের প্রাকৃতিক উৎস।

অবনতির কারণ- বেশ কিছু পরিবেশে অ্যাটোপিক ডারমাটাইটিসের উপসর্গগুলি আরও প্রকট হয়।  

  • ফুলের রেণু, ধুলো, বিভিন্ন প্রাণীর থেকে অ্যালার্জি
  • শীতের ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক হাওয়া
  • সাধারণ সর্দি কাশি
  • কোনও রাসায়নিকের সংস্পর্শে যাওয়া
  • শুষ্ক ত্বক
  • মানসিক ক্লান্তি
  • কোনও সুগন্ধযুক্ত সাবান বা লোশন
  • অতি বেগুনি রশ্মির বিকিরণ

তথ্যসূত্র- www.niams.nih.gov
www.nhs.uk

রোগ নির্ণয়- সাধারণত যে বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে একজিমা রোগ নির্ণয় করা হয়,

১) ইতিহাস

২) উপসর্গ

৩) শারীরিক পরীক্ষা

শরীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও ভালভাবে বোঝার জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য প্রবেশদ্বার (ন্যাশনাল হেলথ পোর্টাল) বিভিন্ন তথ্য দেয়। এক একজন মানুষের শরীরে রোগের প্রকোপ এক একরকম হয়, তাই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের থেকে পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র-www.niams.nih.gov
www.nhs.uk

পরিচালনা- অ্যাটোপিক একজিমার যদিও নির্দিষ্ট সমাধান নেই, তবে নানারকম ওষুধের সাহায্যে এর উপসর্গগুলি উপশম করা যায়। অ্যাটোপিক একজিমা মোকাবিলায় যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয়, সেগুলি হল

ইমোলিয়েন্টস- শুষ্ক ত্বকের জন্য সর্বদা ব্যবহৃত হয়

টপিকাল করটিকোস্টেরয়েড- ফোলা এবং লালভাব কমাতে সাহায্য করে

শরীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও ভালভাবে বোঝার জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য প্রবেশদ্বার (ন্যাশনাল হেলথ পোর্টাল) বিভিন্ন তথ্য দেয়। এক একজন মানুষের শরীরে রোগের প্রকোপ এক একরকম হয়, তাই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের থেকে পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র- www.nhs.uk
www.niams.nih.gov

প্রতিরোধ-

যাঁদের একজিমা আছে, তাঁদের ‘স্মল পক্স’ বা গুটি বসন্তের টিকা নেওয়া উচিৎ নয়। ওই টিকাকরণের ফলে একজিমা প্রবলভাবে বেড়ে যেতে পারে, কিছুক্ষেত্রে  তা প্রাণনাশক হতে পারে।

তথ্যসূত্র- www.cdc.gov

  • PUBLISHED DATE : Apr 16, 2019
  • PUBLISHED BY : NHP Admin
  • CREATED / VALIDATED BY : Paulami
  • LAST UPDATED ON : Apr 16, 2019

Discussion

Write your comments

This question is for preventing automated spam submissions
The content on this page has been supervised by the Nodal Officer, Project Director and Assistant Director (Medical) of Centre for Health Informatics. Relevant references are cited on each page.