প্রাথমিক চিকিৎসা

প্রাথমিক চিকিৎসা

  • আপদকালীন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার জন্য জরুরি ফোন নম্বরগুলি (১০৯২/১০২/১০৮) লিখে রাখা।
  • ক্ষতস্থানের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য  তুলোর গজ রাখতে হবে।
  • ডেটল বা স্যাভলনের মত সংক্রামকনাশক রাখা।
  • ব্যাথা কমানোর জন্য আইবুফ্রেন জাতীয় ওষুধ এবং  অ্যান্টিবায়োটিক মজুত রাখা
  • ক্ষতস্থানে জীবাণু আক্রমণ রুখতে ব্যান্ডেজ ব্যবহার
  • কাঁচি
  • সরনা
  • সেফটি পিন
  • জীবাণুনাশক কাপড় বা সাবান
  • থার্মোমিটার
  • একটি পকেট মুখোশ বা মুখ ঢাকার জিনিস। 

অত্যধিক রক্তপাত

প্রশ্ন – একজন মানুষের যদি অত্যধিক রক্তপাত হয়, তাহলে কী করা দরকার?

  • যে জায়গা থেকে রক্তপাত হয়, সেখানে হাত দিয়ে জোরে চেপে ধরে থাকতে হবে যাতে ওই স্থানে রক্ত চলাচল কম হয়।
  • স্থানীয় আপদকালীন নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়া, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা।
  • যতক্ষণ পর্যন্ত কোনও সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না, ততক্ষণ ক্ষতস্থান চেপে ধরে থাকা।

প্রশ্ন- একজন রোগীর যদি প্রবল ঠাণ্ডা লাগে এবং তাঁকে দেখে বিবর্ণ মনে হলে, কী করতে হবে?

 একজন রোগীর যদি প্রবল ঠাণ্ডা লাগার পাশাপাশি তাঁকে বিবর্ণ দেখতে লাগে, তার অর্থ হল রোগীর শরীরে সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন হচ্ছে না। এটা একটা বিপদ সংকেত, কারণ এর ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। শরীরে অক্সিজেনের অভাব থেকে হার্ট অ্যাটাক বা অন্য অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে যে শারীরিক ক্ষতি হয়, তাকে আমরা ‘শক’ বলতে পারি।

যদি আপনার কখনও কোনও ব্যক্তিকে দেখে মনে হয় যে, সে ‘শক’ পেতে পারেন, তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে শুইয়ে দিন। তাঁর পা’দুটি শরীরের বাকি অংশের থেকে উপরে তুলে রাখুন। এতে মাথায় এবং হৃদযন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে।

প্রশ্ন- ক্ষতস্থান কি ধুয়ে ফেলা উচিৎ?

অগভীর কাটার ক্ষেত্রে ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলা উচিৎ, এর ফলে ক্ষতস্থানে কোনও ধুলো , নোংরা জমতে পারে না। গভীর কাটার ক্ষেত্রে কোনও কলের নিচে হাত রেখে, কল খুলে দেওয়া দরকার। এর ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না।

অত্যধিক রক্তপাতের ক্ষেত্রে কি কি করব, কি কি করব না

কি কি করা উচিৎ

  • রোগীকে বারংবার সাহায্যের কথা বলা।
  • দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে ফোন করা।
  • রক্তপাত বন্ধ করতে ক্ষতস্থান চেপে ধরা।
  • রোগী সঠিকভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারছে কিনা তা দেখা দরকার।
  • রোগীর নাড়ী না পাওয়া গেলে, ‘সিপিআর’ (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশনরোগীর - শ্বাস প্রশ্বাস চালু করতে বুকের উপর হাত দিয়ে জোরে জোরে ধাক্কা দেওয়া) শুরু করুন।
  • সংক্রমণ রুখতে হাতে দস্তানা ব্যবহার করুন।
  • যদি শরীরের উপরিভাগে রক্তপাত হয়, তাহলে মাথা উপরে তুলে ধরুন।
  • শরীরের নিম্নাংশে রক্তপাত হলে, পা উপরে করে দিন।

রক্তপাতের সময় কি কি করা যাবে না

  • খুব প্রয়োজন ছাড়া রোগীকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করবেন না।
  • রোগী ‘মেরুদণ্ডে আঘাত’ পেতে পারেন ভেবে রোগীকে সরানোর চেষ্টা করা করবেন না।
  • কোনও ভাঙা অংশ জুড়তে যাবেন না।
  • ক্ষতস্থান সরাসরি চেপে ধরুন।
  • চোখের মধ্যে গেঁথে যাওয়া কোনও বস্তু জোর করে বের করার চেষ্টা করবেন না।
  • ক্ষতস্থানে পুড়ে যাওয়ার ওষুধ লাগাবেন না।
  • যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপদকালীন নম্বরে ফোন করুন।

 

মাথায় আঘাত

 প্রশ্ন- ঠাণ্ডা সেঁক কিভাবে কাজ করে?

মাথায় ঠাণ্ডা সেঁক দিলে যন্ত্রণা সাময়িকভাবে কম অনুভূত হয়।

প্রশ্ন- মাথায় আঘাত পাওয়ার পর, যন্ত্রণা হলে ব্যথা কমানোর ওষুধ(পেন কিলার) কি দেওয়া যাবে?  

না। এক্ষেত্রে ব্যথা কমানোর ওষুধ দেওয়া যাবে না, কারণ মাথার আঘাতের ক্ষেত্রে ‘পেন কিলার’ কাজ করবে না।

প্রশ্ন- আঘাত কি?

প্রচণ্ড আঘাত বা উত্তেজনার ফলে মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। কোনও ব্যক্তি যদি বাইরে থেকে মাথায় আঘাত পান, সেক্ষেত্রে মাথার খুলিও আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। এর ফলে মানুষ কিছুক্ষণের জন্য চৈতন্য হারাতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ চৈতন্য ফিরে পান, তবে অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা গুরুতর হতে পারে। যদি কখনও মনে হয় যে, কোনও ব্যক্তি মাথায় আঘাত পেয়েছেন, তাহলে অবশ্যই আপদকালীন নম্বরে ফোন করুন।

প্রশ্ন- মাথায় আঘাতের লক্ষণ কি কি?

মাথায় আঘাত লাগলে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলি দেখা যায়,

  • মাথা ঘোরা
  • মাথায় যন্ত্রণা
  • গুলিয়ে ফেলা
  • অসুস্থবোধ করা
  • ঝাপসা দৃষ্টি
  • কি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুলে যাওয়া

পুড়ে যাওয়া

প্রশ্ন- পোড়া জায়গায় কি বরফ লাগানো যেতে পারে?

না। পোড়া জায়গায় ঠাণ্ডা জল লাগান। পোড়া জায়গায় বরফ ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

প্রশ্ন- পুড়ে যাওয়া অংশে সংক্রমণ রুখতে , ক্ষতস্থান কি কোনও কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখা উচিৎ ?

ক্ষতস্থানে কোনও ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা উচিৎ নয়, কারণ পুড়ে যাওয়া অংশের ত্বক কাপড়ে আটকে গেলে, ত্বকের আরও বেশি ক্ষতি হবে। ক্ষতস্থান বরং ‘ক্লিঞ্জ ব্যাগ’ বা পরিষ্কার প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা উচিৎ, এতে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমবে।

প্রশ্ন- যদি পুড়ে যাওয়া অংশে পোশাক আটকে যায়, তাহলে তা কি খুলে ফেলা উচিৎ?

না। সাধারণত আগুন লেগে পুড়ে গেলে পোশাক বা অলংকার খুলে ফেলা উচিৎ। কিন্তু পোড়া জায়গায় যদি পোশাক আটকে যায়, তাহলে জোর করে পোশাক খোলার চেষ্টা না করাই ভাল, কারণ টানাটানিতে ত্বকের আরও বেশি ক্ষতি হতে পারে।  

কি কি করা উচিৎ-

  • যত দ্রুত সম্ভব অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা দরকার। কোনও রাসায়নিক  বা বৈদ্যুতিন বস্তু থেকে দুর্ঘটনার ফলে শিশু অথবা প্রাপ্তবয়স্কদের মুখ বা যৌনাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে ‘সিপিআর’ (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) শুরু করা উচিৎ।
  • পোশাক বা অলংকার খুলে ফেলা ( তবে পোড়া জায়গায় যদি পোশাক আটকে যায়, তাহলে জোর করে খোলা অনুচিত)।
  • কলের নিচে পুড়ে যাওয়া অংশ ধরে থাকতে হবে ১০ মিনিট।
  • কোনও রাসায়নিকের দ্বারা যদি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তৎক্ষণাৎ জল অথবা স্যালাইন দ্রবণের সাহায্যে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • শরীরের কোনও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যদি ‘দ্বিতীয় ডিগ্রি বার্ন’ বা পুড়ে যায়, তাহলে সেই অঙ্গ  হৃদযন্ত্রের উপরে তুলে রাখার চেষ্টা করুন।
  • পুড়ে যাওয়া স্থানের উপর পরিষ্কার হাল্কা কাপড় চাপা দিয়ে রাখুন।   
  • যতক্ষণ পর্যন্ত অ্যাম্বুল্যান্স আসছে না, ততক্ষণ আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে ঠাণ্ডা, ভেজা বস্ত্র জরিয়ে রাখুন।

কি কি করবেন না- 

  • ক্ষতস্থানে কোনও ক্রিম, তেল বা মাখন লাগাবেন না।
  • পোড়া জায়গায় বরফ ব্যবহার করলে ‘ফ্রস্টবাইট’ বা ফোসকা পড়তে পারে।

অচেতন

কেউ হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হলে কী কী করতে হবে-  

  • রোগীকে বসিয়ে দিয়ে বিশ্রাম নিতে বলা, শান্ত করা।
  • শরীরের সঙ্গে চেপে বসে থাকা পোশাক আলগা করে দিতে হবে।
  • রোগীর থেকে জানতে হবে, বুকে ব্যাথার জন্য সে প্রতিদিন নাইট্রোগ্লিসেরিন জাতীয় কোনও ওষুধ খায় কিনা, যদি উনি প্রতিদিন ওষুধ খান, তবে তাঁকে সেই ওষুধ খাওয়াতে হবে।
  • নাইট্রোগ্লিসেরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পরেও যদি ব্যাথা না কমে, তাহলে চিকিৎসকদের সাহায্য নিতে হবে।
  • কেউ যদি বহুক্ষণ ধরে অচেতন অবস্থায় থাকে, সাড়া না দেন, তাহলে আপদকালীন নম্বরে ফোন করতে হবে, শুরু করতে হবে ‘সিপিআর’ (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন)।

হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হলে কী কী করবেন না- 

  • অসুস্থ ব্যক্তিকে একা ছেড়ে দেবেন না।
  • কোনও ব্যক্তি যদি উপসর্গগুলি এড়িয়ে যেতে চান,  তা থেকে তাঁকে বিরত করতে হবে।
  • উপসর্গগুলি মিলিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না।
  • অসুস্থ ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট ওষুধ ছাড়া অন্য কিছু খাওয়াবেন না।

সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন)- জরুরি পরিস্থিতিতে এটি একটি জীবনদায়ী পদ্ধতি।  

  • বুকের সংকোচন প্রসারনের ফলে রোগীর দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয়।
  • রোগীর ফুসফুসে যাতে অক্সিজেন পৌঁছতে পারে, তার জন্য রোগীর মুখে মুখ দিয়ে হাওয়া দিতে হয়।

বুকের সংকোচন – (Chest compressions)

  • অসুস্থ ব্যক্তির বুকের নিচের দিকে একটি হাত রাখুন
  • অপর হাত দিয়ে এবার আরেকটি হাতের আঙ্গুলগুলি ধরে মুঠো করে নিন।    
  • বুকে জোরে এবং মসৃণভাবে ৩০ বার চাপ দিন।
  • অসুস্থ রোগীর মুখে মুখ চেপে ধরে ২ বার করে বায়ু দিন।
  • ৩০ বার বুকের উপর চাপ দেওয়া আর মুখে বায়ু দেওয়া সমান কার্যকরী।
  • প্রতি মিনিটে ১০০ বার করে বুকে চাপ দিতে হবে।

একার পক্ষে কোনও অসুস্থ রোগীর বুকের উপর চাপ দেওয়া বেশ ক্লান্তিকর, তাই অন্যের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।

মুখের থেকে মুখে শ্বাস প্রশ্বাস- 

  • রোগী যদি ভালভাবে শ্বাস নিতে না পারেন, তাহলে প্রথমে তাঁকে পিঠ দিয়ে সমান কোনও জায়গায় শুইয়ে দিতে হবে।
  • রোগীর শরীরে যাতে বায়ু চলাচল করতে পারে, সে জন্য রোগীর মাথা পিছনে হেলিয়ে দিয়ে চিবুক তুলে ধরুন।
  • আপনার তর্জনী এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে অসুস্থ ব্যক্তির নাক চেপে ধরুন।  
  • রোগীর মুখের উপর মুখ চেপে ধরে হাওয়া দিন।
  • দু’বার রোগীর মুখে সম্পূর্ণ বাতাস ভরে দিন। রোগীর মুখে বাতাস দেওয়ার আগে ভাল করে দেখে নিন, কোথাও কোনও ফাঁক আছে কিনা, যদি মনে হয় হাওয়া বেরিয়ে যাচ্ছে, রোগী শ্বাস নিচ্ছেন না, তাহলে  দেখতে হবে নাক সঠিকভাবে বন্ধ রয়েছে কিনা, মুখ ঠিকভাবে বন্ধ করে হাওয়া ভরা হচ্ছে কিনা।
  • যতক্ষণ পর্যন্ত কোনও চিকিৎসকের সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ এই পদ্ধতি চালিয়ে যেতে হবে।  

১-৮ বছরের বাচ্চাদের জন্য ‘সিপিআর’- 

  • যে কোনও একটি হাত দিয়ে বুকের উপর চাপ দিন।
  • উপরে বর্ণিত প্রক্রিয়াতেই ‘সিপিআর' পদ্ধতি প্রয়োগ করুন।

নবজাত শিশুদের জন্য ‘সিপিআর’-  

  • এক থেকে বারো মাস বয়সি বাচ্চাদের পিঠ দিয়ে সোজাভাবে শুইয়ে দিতে হবে, কিন্তু তাঁদের মাথা কখনই পিছনে হেলিয়ে দেওয়া যাবে না বা চিবুক ধরে তোলা যাবে না।
  • মুখ থেকে মুখে যখন বাতাস দেওয়া হবে, তখন নিজের মুখ দিয়ে বাচ্চাদের মুখ এবং নাক দিয়ে বাতাস পাঠাতে হবে , বাচ্চাদের মুখে অল্প অল্প করে বাতাস দিতে হবে।
  • বুকে চাপ দেওয়ার সময় যে কোনও হাতের দুটো আঙ্গুল ব্যবহার করুন।
  • ‘সিপিআর’ পদ্ধতির সময় উপরে বর্ণিত বাকি নিয়ম মেনে চলুন।

কখন আমরা সিপিআর বন্ধ করব?

তখনই  সিপিআর বন্ধ করা হবে, যখন

  • রোগী আবার শ্বাস নিতে শুরু করবেন।
  • চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মীরা উপস্থিত হলে।

যে ‘সিপিআর’ পদ্ধতিতে রোগীকে সুস্থ করার চেষ্টা করছিলেন, তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লে। 

নাক রক্তপাতের

নাক থেকে রক্তপাতের উপসর্গ- 

  • দুটো নাক থেকেই রক্তপাত
  • কখনও কখনও মুখ বা কান থেকে রক্তপাত

 

নাক দিয়ে রক্তপাতের কারণ-

  • শুষ্কতা
  • জোরে জোরে নাক ঘষে ফেলা
  • অ্যাসপিরিনের মত ওষুধ ব্যবহার
  • কান পরিষ্কার করা
  • নাকের মধ্যে কোনও কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া
  • নাকে আঘাত
  • নাকে কোনও সংক্রমণ
  • অথেরোস্কলেরোসিস
  • রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা

 

নাক থেকে রক্ত পড়া কীভাবে বন্ধ করা যাবে?

  • নাক থেকে রক্ত পড়লেই আতঙ্কিত হলে চলবে না, অসুস্থ ব্যক্তিকে সোজাভাবে বসাতে হবে, তাঁর মাথা সামনে অল্প করে তুলে ধরতে হবে।
  • তর্জনী এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে নাসারন্ধ্রে হালকা চাপ দিতে হবে।
  • যতক্ষণ পর্যন্ত রক্ত পড়া বন্ধ হচ্ছে না, ততক্ষণ চাপ দিয়ে যেতে হবে।
  • রোগীকে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বলা।
  • গলার কাছে যে কোনও আঁটোসাঁটো পোশাক আলগা করে দেওয়া।
  • নাসারন্ধ্র ১০ মিনিট চেপে ধরে থাকতে হবে, তারপর ধীরে ধীরে হাত সরিয়ে দেখতে হবে, রক্ত পড়া কমেছে কিনা।  
  • যদি রক্ত পড়া বন্ধ না হয়, তাহলে অবশ্যই অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

Note: Ask the patient not to sniff or blow their nose for at least 15 minutes-

রোগীকে কমপক্ষে ১৫ মিনিট হাঁচতে বা নাক টানতে বারণ করুন।  

কোনও শিশুর নাক দিয়ে রক্তপাত হলে, কী করা উচিৎ?

 শিশুর নাক দিয়ে রক্তপাত হলে অবশ্যই কোনও চিকিৎসকের কাছে তাকে নিয়ে যান, শিশুর নাক থেকে রক্তপাতের কারণ জানতে চান।  

 

বিস্তারিত তথ্য/ সূত্র

সাপে কামড়ানো

সাপে কামড়ানো আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরে  প্রচলিত, এবং আমরা এটি প্রতিরোধ করতে পারিনি। সাপের কামড়ানোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের শিক্ষা ভীষণ জরুরি, পাশাপাশি সাপের কামড়ের পর কিছু অবশ্য পালনীয়  কর্তব্য থাকে। সাধারণ মানুষ তাঁর  জীবদ্দশায় যে কোনও সময়ে সাপের কামড়ের শিকার হতে পারেন । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লুএইচও (২০০৪)– এর আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সাপের কামড়ের কারণে মৃত্যু রুখতে নানা সুপারিশ করে। এর প্রাথমিক সুপারিশ ছিল, প্রমাণ ভিত্তিক পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ওষুধের জন্য একটি  নির্দিষ্ট খসড়া নীতি তৈরি করা,  যা ভারতীয়দের প্রসঙ্গেও সমান প্রাসঙ্গিক।

মনে রাখতে হবে, পুরনো পদ্ধতিতে সাপে কামড়ের  চিকিৎসায় উপকৃত হওয়ার কোন নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। বরং সময় নষ্ট না করে রোগীকে নিকটতম হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতির খসড়া- (First- Aid treatment protocol)

সাপে কামড়ানোর প্রাথমিক চিকিৎসায় মনে রাখতে হবে - ‘’CARRY NO R.I.G.H.T’’ (ক্যারি নো রাইট) । শব্দগুলির অর্থ নিম্নে বর্ণনা করা হল।

CARRY (বহন)- আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনভাবেই হাঁটতে দেওয়া যাবে না। আক্রান্ত ব্যক্তির পায়ে যদি সাপ কামড়ায় তাহলে  অবশ্যই তাঁকে কোনও যানবাহনের সাহায্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে হবে।

  • NO (না)- কী কী করবেন না
  • না – তুরনিকে (রক্ত পড়া বন্ধ করতে  এক ধরনের বিশেষ ব্যান্ডেজ)
  • না – কাটাছেঁড়া
  • না -  বিদ্যুৎ শক্তি প্রয়োগ করে চিকিৎসা
  • না – খুব জোরে চেপে ব্যান্ডেজ (Pressure immobilisation) করবেন না। নাইট্রোজেসিক অয়েনমেন্ট বা নাইট্রেট স্প্রে করবেন না।

 

R.I.G.H.T:

 R: বারবার রোগীকে আশ্বাস দিন, কারণ সাপে কামড়ানোর ৭০% ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা যায় সাপগুলি বিষাক্ত নয়। ৫০% ক্ষেত্রে মানুষ বিষাক্ত সাপের ছোবলে আক্রান্ত হন।

I: দেহের যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সাপ কামড়েছে, সেখানে হালকা কোনও কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজ করতে হবে। মাথায় রাখতে হবে, কোনওভাবে চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। কারণ চাপ প্রয়োগ করলে দেহের নির্দিষ্ট অঙ্গপ্রতঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাবে। খুব চেপে কাপড় বাঁধলে, তা উল্টে শরীরের পক্ষে বিপজ্জনক হয়।

GH: রোগীকে শীঘ্র হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

T: রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর সামগ্রিক স্বাস্থ্য লক্ষণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন।

পুরনো পদ্ধতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা করে সময় নষ্ট করবেন না। কারণ হাসপাতালে দ্রুত আধুনিক চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়।

 

নির্ণয় অধ্যায়- (Diagnosis phase)

আক্রান্তের নতুন জীবনদান এবং শ্বাসকষ্ট কমানোই  প্রধান এবং প্রাথমিক লক্ষ্য থাকে।

রোগীর যাতে আর শারীরিক অবস্থার অবনতি না হয়, সে কারণে সারাক্ষণ নজরদারি চালু থাকে। যে কোনও সময় রোগীর শ্বাসকষ্ট বা হৃদযন্ত্রে সমস্যা হতে পারে।

ক্ষতস্থান ভাল করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে, সেখানে বিষদাঁতের চিহ্ন আছে কিনা।

মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিভিন্ন পেশি, রক্তজালিকা, স্নায়ু দিয়ে গঠিত হয়। ‘কম্পার্টমেন্ট সিনড্রোম’ একটি বিরল জটিলতা। এর ফলে গ্রন্থিগুলি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়।

১- নির্ণয় অধ্যায়ের সাধারণ মূল্যায়ন- 

সাধারণ মূল্যায়ন করা হয় রোগীর প্রাথমিক উপসর্গগুলি দেখে। সাপের প্রজাতি এবং নানা বৈশিষ্ট্যর উপর নির্ভর করেই মূল্যায়ন করা হয়।

  • সাপে কামড়ানো অংশে ব্যাথা বা কোনও কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। ক্ষতস্থানে কোনও ঘা, ফোসকা তৈরি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে।
  • টোসিস ( বারবার চোখের উপরের পাতা পড়ে যাওয়া) / স্নায়ুঘটিত বিভিন্নরকম লক্ষণ। বিষক্রিয়ার ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত পেশিগুলি কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। ফলস্বরূপ মৃত্যুও হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির দেখতে বা কথা বলতেও সমস্যা হয়।
  • রক্তপাত বন্ধ হয় না, রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না।
  • পেশি মৃত্যু – কিছু কিছু সাপের বিষের থেকে পেশির মৃত্যু বা কার্যকারিতা হারাতে পারে। কিছু কিছু প্রোটিন জমা হয়ে বৃক্ক (কিডনি) আক্রান্ত করে। কারণ পুরো বিষ শরীর থেকে বের করে দেওয়া সম্ভব হয় না।
  • মূত্রাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  

এছাড়া সাপের বিষ প্রতিরোধক এবং ‘নিওস্টিগমাইন’ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চলছে।

২) রোগ নির্ণয়ে অনুসন্ধান 

২০ মিনিটে রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা (20WBCT) -  কোনও বিষাক্ত সাপে কামড়ালে রক্ত স্বাভাবিকভাবে জমাট বাঁধতে পারে না। সেক্ষেত্রে এই ২০ মিনিটের রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা করলেই সহজে বোঝা যায় সাপটি বিষধর ছিল কিনা। প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে কয়েক মিলিলিটার রক্ত নিয়ে রাখতে হবে একটি কাচের টেস্ট টিউবে। এবার ওই টেস্ট টিউবটি ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় ২০ মিনিট রাখতে হবে। রক্ত জমাট বাঁধছে কিনা তা দেখার জন্য ২০ মিনিট পর, টেস্ট টিউবটি নাড়াতে হবে। যদি তখনও পর্যন্ত রক্ত তরলই থাকে, তাহলে বুঝতে হবে রোগীকে বিষধর সাপ ছোবল দিয়েছে।  তিন ঘণ্টা ধরে  ৩০ মিনিট অন্তর এই পরীক্ষা করতে হবে, তারপরে এক ঘণ্টা অন্তর পরীক্ষা চলবে। রক্ত জমাট না বাঁধলে ছয় ঘণ্টা অন্তর সাপের বিষ প্রতিরোধক বা অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু করতে হবে।

রক্তপাত, পেশির মৃত্যু এবং বৃক্ক বা কিডনির কার্যকারিতা ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য পরীক্ষাগারে রক্ত এবং মূত্রের নমুনা পাঠাতে হবে।  

 

পরিচালনা-

চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই রোগীর চিকিৎসা করাতে হবে।

সাধারণত সাপ একবার কামড়েই থেমে যায় না, সাপের বিষ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বারংবার ছোবল দেয়। চেষ্টা করতে হবে যাতে সাপ দ্বিতীয়বার কামড়াতে না পারে, অন্য কাউকে যাতে না কামড়ায়। সাপ ধরার চেষ্টা করবেন না, কারণ তাতে পুনরায় ছোবল খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে সাপটিকে শনাক্ত করুন, তবে অবশ্যই মাথায় রাখবেন যেন সাপ আর আঘাত করতে না পারে।

সাপের কামড় খাওয়া রোগীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।

১) সাধারণ- 

ব্যাথা (Pain) - সাপের কামড় থেকে প্রচণ্ড ব্যাথা অনুভূত হয়। ব্যাথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ‘পেন কিলার’ দেওয়া হয়।

তুরনিকে (Tourniquets) - যদিও বর্তমানে তুরনিকে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় না, তাও কিছু ক্ষেত্রে এখনও এর ব্যবহার প্রচলিত আছে। কেউ যদি তুরনিকে ব্যবহার করেন, এবং আচমকা ওই আঁটসাঁট ব্যান্ডেজ খোলা হয়, তাহলে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রক্তচাপ কমিয়ে দেয়, এমনকি স্নায়বিক পক্ষাঘাতও হতে পারে। কোনও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তুরনিকে ব্যান্ডেজ খুলতে হবে।  রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক এবং টিটেনাস টক্সোয়েড দিতে হবে। 

আক্রান্ত স্থান থেকে আংটি বা যে কোনও প্রকার অলংকার খুলে দিতে হবে।

আগে সাপের বিষ বের করার জন্য ‘সাকশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হত। কিন্তু এই পদ্ধতিতে বেশ কিছু স্থানীয় কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বর্তমানে এই পদ্ধতি আর ব্যবহার করা হয় না।

২) সাপের বিষ প্রতিরোধক-

যখনই সাপের বিষ প্রতিরোধক (Anti- snake venom)   নিতে বলা হবে, তখনই নির্দিষ্ট পরিমাপে ওষুধ শুরু করতে হবে। ভারতে শুধুমাত্র ‘পলিভ্যালেন্ট’ সাপের বিষ প্রতিরোধক পাওয়া যায়। চার রকম সাপের ( শঙ্খচূড়, চন্দ্রবোড়া, ফুরসা এবং কালাচ) কামড়ের ক্ষেত্রে এই ওষুধ কার্যকরী হয়। ভৌগোলিক অবস্থান এবং সাপের প্রজাতি অনুযায়ী বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়। সবার প্রথমে সাপগুলিকে শনাক্ত করতে হয়।

সাপের বিষ প্রতিরোধক দেওয়ার মানদণ্ড- 

সাপের বিষ প্রতিরোধক বেশ দামি এবং অপ্রতুল। শরীরে সাপের বিষ প্রবেশের সমস্ত চিহ্ন দেখার পরই প্রতিরোধক ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়। কলা বা রক্তপ্রবাহের মধ্যে প্রবাহিত বিষকেই পরিশোধন করা যায়। সাপের বিষ প্রতিরোধক থেকে ‘অ্যানাফিল্যাকটিক শকে’র ঝুঁকি থাকে, তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে এটি ব্যবহার করা যায় না।

সাপের বিষ প্রতিরোধক ব্যবহারের নির্দেশ- 

১) সমগ্র দেহ সংক্রান্ত বিষ প্রতিরোধক 

  • রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ- শরীরে সাপের বিষ ঢুকেছে কিনা তা বোঝার জন্য রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা ২০ ডব্লুবিসিটি করতে হবে।
  • নিউরোটক্সিসিটির প্রমাণ- আক্রান্ত ব্যক্তির কোনও পেশির পক্ষাঘাত হয়েছে কিনা, চোখ এবং মাথা ঘোরাতে পারছে কিনা।
  • কার্ডিওভাসকুলার ব্যবস্থায় অস্বাভাবিকতা- রোগীর রক্তচাপ কমে যাবে, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, বা হৃদচিত্রাঙ্কলেখায় অস্বাভাবিকতা।
  • ক্রমাগত বমি এবং পেটে যন্ত্রণা  

২) তীব্র স্থানীয় বিষ প্রয়োগ-

  • বিষ প্রয়োগে স্থানীয় অংশ মারাত্মক ফুলে যাওয়া- তুরনিকের অভাবে আক্রান্ত অংশ ভীষণ ফুলে যেতে পারে। আঙুল এবং পায়ের চেটোতে সাপে কামড়ানোর ফলে অনেক সময় ওই অংশের পচন ধরে।  
  • ফোলা দ্রুত বেড়ে যাওয়া-  খুব দ্রুত ফোলা অংশ বেড়ে যায় ( হাতে বা পায়ে সাপে কামড়ানোর পর  কনুই বা কোমর ছাড়িয়ে যায় ফোলাভাব)। সাপে কামড়ানোর বহুক্ষণ পর যদি ফুলতে শুরু করে, তখন আর সাপের বিষ প্রতিরোধক দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ স্থানীয় ফুলে যাওয়া- যদি ফোলাভাব বা আপাতভাবে বিষাক্ত সাপের কামড় বলে মনে হলেও, সাপের বিষ প্রতিরোধক শুরু করা যায় না।

সাপের বিষ প্রতিরোধক – 

এক একজনের ক্ষেত্রে সাপের বিষ প্রতিরোধকের মাত্রা এক এক রকম হবে। সাধারণত ১০ থেকে ৩০টি ওষুধের শিশি বা ভায়াল লাগে। যদিও প্রত্যেক রোগীর ১০টি ওষুধের শিশি প্রয়োজন হয় না। সাপের বিষের প্রভাব নষ্ট করতে ১০টি শিশিই যথেষ্ট হয়। ওষুধ কাজ করতে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।

কোনও পরীক্ষা না করে সাপের বিষ প্রতিরোধক ওষুধ দেওয়া যাবে না। কারণ পরীক্ষা ছাড়া ওষুধ দিলে রোগীর শরীরে মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া শুরু হবে।  

দুই রকম পদ্ধতিতে সাপের বিষ প্রতিরোধক দেওয়া হয়।  

  • শিরার মধ্যে দিয়ে ইনজেকশন প্রয়োগ- পুনর্গঠিত ঠাণ্ডা  বিষ প্রতিরোধক বা তরল  বিষ প্রতিরোধক শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে দিতে হবে ( মিনিটে ২ মিলিলিটারের বেশি হবে না)।
  • শিরার মধ্যে  মিশ্রণ- রোগীর দেহভারের প্রতি কিলোগ্রাম প্রতি পুনর্গঠিত ঠাণ্ডা  বিষ প্রতিরোধক বা তরল  বিষ প্রতিরোধককে পাঁচ মিলিলিটার ‘আইসোটনিক’ তরলের ( আইসোটনিক লবণজল বা পাঁচ শতাংশ শর্করা) সঙ্গে মেশাতে হবে। ৩০-৬০ মিনিট ধরে ক্রমাগত মিশ্রণ করা হবে।

সাপের বিষ প্রতিরোধক দেওয়ার প্রাথমিক পরিমাপ- (Recommended initial doses of ASV)

নিউরোটক্সিক/ হেমোস্ট্যাটিক ঘটনার ক্ষেত্রে-  নিউরোটক্সিন বা হেমোস্ট্যাটিক ক্ষেত্রে ১০ শিশি সাপের বিষ প্রতিরোধক প্রয়োজন হয়। পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বিষ প্রতিরোধকের পরিমাপ সমান হবে। কারণ সাপ কামড়ানোর সময় একজন অন্তঃসত্ত্বাকে যে পরিমাণ বিষ দেয়, একজন শিশুর ক্ষেত্রেও  সমপরিমাণ বিষ প্রয়োগ করে।

৩০-৬০ মিনিট ধরে ক্রমাগত একটি নির্দিষ্ট গতিতে বিষ প্রতিরোধক দিয়ে যেতে হয়।  মিশ্রিত তরল ছাড়া যদি ‘আইসোটনিক’ লবণজলে তরল বা পুনর্গঠিত বিষ প্রতিরোধক দেওয়া হলে তা রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হতে পারে।

বিষ প্রতিরোধক দেওয়ার পর  সাপে কামড়ানোর জায়গার কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যায়, বেদনাদায়ক এবং অভ্যন্তরীণ কোশের চাপ বৃদ্ধি করে। সাপের বিষ প্রতিরোধক ইনজেকশন আঙুলে দেওয়া হয় না।

সাপে কামড়ানোর কতক্ষণের মধ্যে বিষ প্রতিরোধক দিতে হবে-

যখনই চিকিৎসক নির্দেশ দেবেন, তখনই বিষ প্রতিরোধক দেওয়া শুরু করতে হবে। ওষুধ চলাকালীন হেমোস্ট্যাটিক অস্বাভাবিকতা দুই সপ্তাহের অধিক সময় থাকতে পারে। যতদিন রক্ত তঞ্চনের ক্ষমতা ফিরে আসে, ততদিন ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।

সাপের বিষ প্রতিরোধকের প্রতিক্রিয়া- 

সাপের বিষ প্রতিরোধের মারাত্মক পার্শ্ব -প্রতিক্রিয়া হয়। অ্যানাফাইল্যাক্সিস নামে প্রাণঘাতী অ্যালার্জির দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন।   আক্রান্তের খুব জ্বর , চুলকানি, রক্তচাপ কমে যাওয়া, ব্রঙ্কোস্প্যাজম ( ব্রঙ্কিগুলির পথ সংকীর্ণ হয়ে যায়, কাশির সঙ্গে অনবরত কফ উঠে আসা) হতে পারে। রোগী যদি অ্যানাফাইল্যাক্সিস অ্যালার্জির শিকার হন, তাহলে বিষ প্রতিরোধক বন্ধ করে দিতে হবে। রোগীর শরীরে যদি প্রথমে ওষুধের প্রতিক্রিয়া না হয়, তাহলে অ্যাড্রিনালিন দিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তের নিম্নচাপ সঠিক মাত্রায় আনার জন্য নোর‍্যাড্রিনালিন, নাইট্রোগ্লিসারিন রাখা জরুরি। সংবহনতন্ত্রের কার্যক্ষমতা যাতে নষ্ট না হয়, সেই কারণে ‘ইনট্রাভেনাস’ বা শিরায় তরল পাঠানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার।

সুস্থ হওয়ার সময়, সাপের বিষ প্রতিরোধক খুব ধীরে ধীরে ১০-১৫ মিনিট অন্তর দিতে হবে, রোগীকে সারাক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তারপর সাধারণ মাত্রায় ওষুধ চলবে।

সিরাম পরবর্তী অসুস্থতা- সিরাম পরবর্তী অসুস্থতা রুখতে স্টেরয়েড দেওয়া হয়। রোগী যাতে আরাম পান, সেকারণে অ্যান্টিহিস্টামিনিক্স দেওয়া হয়।

৩) নিউরোটক্সিক বিষপ্রয়োগ-

নিওস্টিগমাইন- এটি একধরনের ‘অ্যান্টিকোলিনেসটেরাস’  যা অ্যাসিটিলকলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা এবং নিউরোটক্সিক উপসর্গগুলিকে রুখে দিতে সাহায্য করে।

৪) পুনরায় অ্যান্টি-হেমোস্ট্যাটিক প্রদান-

 অ্যান্টি-হেমোস্ট্যাটিক বিষপ্রয়োগের ক্ষেত্রে , সাপের বিষ প্রতিরোধক দেওয়ার জন্য ৬ ঘণ্টা সময় লাগবে, যেখানে পরীক্ষা করে দেখা হবে যে রক্ত জমাট বাঁধছে কিনা। রক্ত তঞ্চনে যদি কোনও সমস্যা দেখা যায়, তাহলে এক ঘণ্টা পর আবার সাপের বিষ প্রতিরোধক দিতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সাপটিকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে ততক্ষণ বোঝা যাবে না যে, কোন ‘পলিভ্যালেন্ট’টি কাজ করছে না,  রক্ততঞ্চন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওইভাবেই বিষ প্রতিরোধক চলবে। প্রথমবার যে পরিমাণ সাপের বিষ প্রতিরোধক দেওয়া হয়েছিল, প্রয়োজন হলে সেই পরিমাণ ওষুধ ১০টি মাত্রায় দিতে হবে।

৫)পুনরায় হেমাটোটক্সিক প্রয়োগ-

সাধারণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, রক্ততঞ্চন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর সাপের বিষ প্রতিরোধক চালিয়ে যেতে হবে। ৩০টি ভায়াল বা মাত্রা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যদি রক্ত তঞ্চনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়, তাহলে কি করা প্রয়োজন? একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, হেমাটোটক্সিক বিষের ক্ষেত্রে সাপের বিষ প্রতিরোধকের ৫০টি ভায়াল (৫০০ মিলিলিটার) লাগে। কিছু কিছু বিষের ক্ষেত্রে সাপের বিষ প্রতিরোধক কাজ করে না। সেইসকল ক্ষেত্রে রক্ততঞ্চন স্বাভাবিক হতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে।  

৬) অস্ত্রোপচারের ভূমিকা-

সার্জিকাল ডেব্রাইডমেন্ট- সার্জিকাল ডেব্রাইডমেন্ট বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কলাগুলি (নেক্রোটিক টিস্যু) বাদ দেওয়া হয়।

ফ্যাসিওটমি- রক্তপাতের ফলে পেশির মধ্যে যখন চাপ বেড়ে যায়, রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে স্নায়ুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একে  ‘কম্পার্টমেন্টাল সিনড্রোম’ বলে। ‘কম্পার্টমেন্টাল সিনড্রোম’ ঠিক করতে ফ্যাসিয়া কেটে দেওয়া হয়। যাতে রক্ত সংবহন ঠিক হয়। এই পদ্ধতিকে  ফ্যাসিওটমি বলে। যদিও এই পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

বহু ছিদ্র পদ্ধতি- পেশির ‘কম্পার্টমেন্টাল চাপ’ কমাতে বড় বোর সুচ দিয়ে নির্দিষ্ট অংশে অনেকগুলি ছিদ্র করা হয়। স্যালাইন ম্যানোমিটারের সাহায্যে পেশির ‘কম্পার্টমেন্টাল চাপ’ পরিমাপ করা যায়।

তথ্যসূত্র-

http://apps.who.int/iris/bitstream/10665/249547/11/9789290225300-eng.pdf

http://www.japi.org/august_2016/01_editorial.pdf

http://apiindia.org/medicine_update_2013/chap94.pdf

http://www.who.int/snakebites/en/

http://www.who.int/snakebites/disease/en/

http://www.who.int/ipcs/poisons/snakebite/en/

http://164.100.130.11:8091/nationalsnakebitemanagementprotocol.pdf

http://www.apiindia.org/pdf/medicine_update_2017/mu_113.pdf

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/28799310

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/27762105

https://www.emedicinehealth.com/snakebite/article_em.htm#snakebite_symptoms

 

  • PUBLISHED DATE : Apr 24, 2019
  • PUBLISHED BY : NHP Admin
  • CREATED / VALIDATED BY : NHP Admin
  • LAST UPDATED ON: Apr 24, 2019

Discussion

Write your comments

This question is for preventing automated spam submissions